সাপের মতো খোলস বদলায় এই অদ্ভুত বালক, মুহূর্তে বদলে যায় গায়ের রং

9
bengali news

Highlights

  • আর ৫ টা সাধারণ বালকের মতো নয় জগন্নাথ
  • বিরল রোগে আক্রান্ত এই বালক প্রতি মাসে খোলস ছাড়ে সাপের মতো
  • এই সময়টাতে নড়াচড়া করার মতোও শক্তি থাকে না ছোট্ট জগন্নাথের

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সাপ যেমন নিজের দৈর্ঘ্য আরও খানিক বাড়িয়ে নিতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর শরীরের খোলস ছাড়ে, অনেকটা ঠিক তেমন। আর ৫ টা সাধারণ বালকের মতো নয় জগন্নাথ। তার অদ্ভুত সেই চেহারা এক ঝলকে যে কোনও সাহসী হৃদয়ে ভয় ঢুকিয়ে দিতে বাধ্য। প্রাকৃতির অদ্ভুত খেয়ালে সবার থেকে আলাদা ওড়িশার গাঞ্জাম জেলার মাত্র ১০ বছরের এই বালক জগন্নাথ প্রধান। বিরল রোগে আক্রান্ত এই বালক প্রতি মাসে খোলস ছাড়ে সাপের মতো। উঠে যায় তার শরীরের পুরানো চামড়া। তবে শুনতে যতটা সহজ লাগে অতটাও সহজ নয় বিষয়টি।

অদ্ভুত এই রোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে কয়েক বছর আগে। দেখা যায় ছোট্ট শিশু জগ্ননাথের শরীরের চামড়া শুকিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এরপর একটা সময়ে সাপের খোলস ছাড়ার মতো উঠে যাচ্ছে তার চামড়া। ওড়িশার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে ঘটনাটিকে অদ্ভুত দৈবশক্তির বিষয় বলে প্রথমে ভেবেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু বিষয়টি যে ভয়াবহ তা প্রকাশ্যে আসে কিছু পরেই ত্বকের শুষ্কতা এতটাই বাড়তে থাকে যে ওই ছোট্ট শিশুর নড়াচড়া করার মতোও আর অবস্থা থাকে না। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন বছরের পর বছর। জগ্ননাথের বয়স এখন ১০। রোগ সেই ছোটবেলা থেকে যা ছিল আজও তেমন। চেষ্টা অবশ্য একটা করা হয়েছিল ডাক্তার দেখানো হয়েছিল কিন্তু বিশেষ লাভ হয়নি।

পরিবারের দাবি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ অন্তর শরীরের চামড়া বদলায় ওই বালক। শুষ্ক ত্বক নরম রাখার জন্য সারা শরীরে মাখাতে হয় ময়েশ্চারাইজার। তাতে খনিকের স্বস্তি মিললেও বিশেষ লাভ অবশ্য হয় না। শুষ্ক হতে হতে কিছুদিনের মধ্যেই শক্ত হয়ে যায় শরীরের চামড়া। ধীরে ধীরে তা উঠে যেতে থাকে শরীর থেকে। এই সময়টাতে নড়াচড়া করার মতোও শক্তি থাকে না ছোট্ট জগন্নাথের। চোখে পলকও ফেলতে পারে না সে। চমড়া বদলের কারণে প্রতিদিন বদলাতে থাকে শরীরের রং। স্থানীয় এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের দাবি, এই রোগ সারার নয়। যদিও অনেক ডাক্তারের দাবি, সঠিক চিকিৎসা হলে এই রোগও সেরে যায়। যদি ওই বালকের পরিবার সেই পরিমাণ অর্থ জোগাড় করতে পারে। এদিকে জগ্ননাথের বাবার দাবি, চোখের সামনে ছেলের এই তিলে তিলে কষ্ট পাওয়াটা দেখা যায় না। কিন্তু কিছু করারও নেই আমাদের। ভীষণ গরিব আমরা। স্থানীয় ডাক্তারের দাবি এই রোগ সারবে না। বাইরে নিয়ে গিয়ে যে চিকিৎসা করাব এমন সামর্থ্যও নেই।

যদিও ডাক্তারি পরিভাষায় জগন্নাথের এই রোগের নাম ‘ল্যামেলার ইচথিয়োসিস’। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অত্যন্ত বিরল রোগের মধ্যে পড়ে এই রোগ। সারা এই রোগে ভুক্তভোগীর সংখ্যা মাত্র ৬ লাখ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই রোগ আরও ভয়াবহ রুপে দেখা যায় শরীরে। তবে জগন্নাথের যে লক্ষণগুলি দেখা যাচ্ছে তা অতটাও বিপদজনক নয়।