প্রতিবন্ধকতা কোনও বাধাই নয়, প্রমাণ করল ২৫ বছরের এই ছেলে

46

মহানগর ডেস্ক : একটা দুর্ঘটনা, তারপরেই জীবনটা একেবারে অন্যরকম হয়ে গেল চেন্নাইয়ের নাধর্বেনের। আর বাকি পাঁচটা ছেলে মেয়ের মতন যে বয়সে স্বপ্ন দেখছিল এমবিএ করে কোনও এক নামজাদা কোম্পানিতে চাকরি করবে। সচ্ছল ভাবে কাটাবে বাকি জীবনটা। ঠিক সেই সময় জীবনটা কে বলেছিল ‘সামনের রাস্তাটা বেশ কঠিন বন্ধু’।

 

২০১০ সালের এক দুর্ঘটনায় সার্বিক বিকৃতি ঘটে নাধর্বেনের।পায়ের কিছু পেশীর অপুষ্টির কারণে ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয় তাঁর। তা সত্বেও নিজের পড়াশোনা শেষ করে গেছিল শহরের এক পরিচিত কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে। যথেষ্ট ক্ষমতা থাকা সত্বেও মাত্র হাঁটাচলার অক্ষমতার কারণে সেখান থেকে বাতিল করে দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানকার কর্মীদের ধারণা ছিল, যে ঠিক করে হাঁটাচলা করতে পারেনা কী ভাবে কাজ করবে এত বড় কোম্পানিতে!

 

তবে নাধর্বেনের মনের জোর ছিল অসীম। বসে সে থাকবে না কিছুতেই। সেই সঙ্গে এটাও বুঝি ছিল তাঁর মত এমন হাঁটাচলা অক্ষম বহু মানুষ। যাঁরা প্রত্যেকদিন একটি কারণে হারিয়ে ফেলছে বহু সুযোগ। সে যতই যোগ্য হোক তার পরেও। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ২০১৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে খুলে ফেলল একটা নিজস্ব একটা কোম্পানি। নাপ্পিনাই প্রাইভেট লিমিটেড, এমন এক সংস্থা যে তৈরি করে এক বিশেষ ইলেকট্রিক্যাল স্কুটার। যেটি শুধুমাত্র হাঁটাচলায় অক্ষম যারা তাঁদের জন্য। শুধু তাই নয়, পরিবেশের যাতে এতোটুকু ক্ষতি না হয় সেই কারণে ব্যবহার করেছে গ্রীন টেকনোলজি। তবে সরকারের থেকেও পেয়েছেন সাহায্য। তামিলনাড়ু সরকার নাধর্বেনের এই অসাধারণ প্রতিভা দেখে তাঁকে সাহায্য করেছিল ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে। সাহায্য পেয়েছেন বন্ধু এবং পরিবারের থেকেও।

 

অবশেষে তৈরি হয়েছে সেই স্কুটার। যে স্কুটার অক্ষম মানুষগুলোর পায়ে নতুন চালিকাশক্তির কাজ করবে। আপাতত স্কুটারের স্পিড রাখা হয়েছে ৬০ থেকে ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। তবে এর পুরোটাই নির্ভর করবে তিনি চালাবেন তার ওপর।