পেট ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৩০ বছরের যুবতী জানতে পারলেন তিনি আসলে ‘পুরুষ’!

30

মহানগর ওয়েবডেস্ক: হঠাৎ কিছুদিন ধরেই তলপেটে ভীষণ ব্যথা বীরভূমের মৌসুমীর (নাম পরিবর্তিত)। সব ঠিকই ছিল, কিন্তু হঠাৎ তলপেটে ব্যথা কেন, তা জানতেও এক অংকোলজিস্টের পরামর্শ নিন বছর ত্রিশের ওই যুবতী। আর শেষমেষ জানা গেল ওই যুবতী আসলে ‘পুরুষ’, এবং তিনি টেস্টিকিউলার ক্যান্সারে আক্রান্ত!

এই অদ্ভুত তথ্য সামনে আসার পরেই তার থেকে দুই বছরের ছোট বোনেরও পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা যায় তিনিও আসলে ‘পুরুষ’। অদ্ভুত এই কন্ডিশনের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাম ‘এন্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি সিন্ড্রোম’। এই অবস্থায় শারীরিক ভাবে কেউ মহিলা হলেও, জেনেটিকালি সে পুরুষ। খুবই দূর্লভ এই অবস্থা। ২২,০০০ জনের মধ্যে একজনের এই ‘রোগ’ হয়।

গত নয় বছর ধরে বিবাহিত ওই মহিলা। দুই মাস আগে পেটে ব্যথা নিয়েই স্থানীয় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানেই ক্লিনিক্যাল অংকোলজিস্ট ডাঃ অনুপম দত্ত ও সার্জিক্যাল অংকোলজিস্ট ডাঃ সৌমেন দাস তাঁর পরীক্ষা করে বিষয়টি আবিষ্কার করেন।

এই প্রসঙ্গে ডাঃ অনুপম দত্ত জানান, ‘তাঁর শারীরিক গঠন, চেহারা, গলার স্বর, বক্ষ, সব দিক থেকেই তিনি একজন নারী। কিন্তু তাঁর ইউটেরাস ও ওভারি (জরায়ু ও ডিম্বাশয়) নেই। এমনকি তাঁর কখনও ঋতুস্রাবও হয়নি।’ যখন প্রাথমিক টেস্টে দেখা যায় তাঁর যৌনাঙ্গ বদ্ধ (ব্লাইন্ড ভেজিনা), তখন ডাক্তাররা ক্যারিওটাইপিং টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। তাতেই দেখা যায় ওই মহিলার ক্রোমোসম পুরুষদের মতো ‘XY’ ধরণের। নারীদের ক্রোমোসম ‘XX’ হয়।

এরপরেই আরও বিশদে পরীক্ষা করতে গিয়ে ডাক্তাররা দেখেন তাঁর শরীরের অন্দরেই রয়েছে টেস্টিকল (অণ্ডকোষ)। তাঁর ওই অণ্ডকোষেই ক্যান্সার হওয়ার কারণে তলপেটের ব্যথায় ভুগছিলেন ওই মহিলা। এর আগে ওই মহিলার মায়ের দিকের দুই আত্মীয়ারও একই ধরণের এন্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি সিন্ড্রোম হয়। ডাক্তারদের ধারনা জিনগত ভাবেই ওই মহিলা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।