দক্ষিণী ছবিকে ধরাশায়ী করতে কোমর বেঁধে নামছে বাংলা বিনোদন! আখেরে লাভ হবে তো টলিউডের?

56

মহানগর ডেস্ক : মে মাস মানেই গরমের ছুটি। আর সেই ছুটিতেই আছে এক ঝাঁক বাংলা ছবি। পরিচালক থেকে অভিনেত্রী একের পর এক ঘোষণা করছেন নতুন ছবি। অর্থাৎ গোটা মাস জুড়ে প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখাবে শুধুমাত্র বাংলা ছবি। তালিকায় থাকছেন মিমি চক্রবর্তী,সোহম চক্রবর্তী,সৃজিত মুখোপাধ্যায়,শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়,যশ দাশগুপ্ত,প্রসেনজিৎ প্রত্যেকে। খবর বলছে দক্ষিণের ছবিকে ধরাশায়ী করতে এভাবে কোমর বেঁধেছে বিনোদন দুনিয়া। কিন্তু এতে লাভ কতটা হবে সেই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে যথেষ্ট।

 

আগামী ২৭ মে মুক্তি পাচ্ছে সৌভিক কুন্ডু দ্বিতীয় ছবি আয় খুকু আয়। আবার ওই একই দিনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে অরিন্দম শীলের গোয়েন্দা শবর। এনা সাহা আসছেন তার নতুন ছবি চিনেবাদাম নিয়ে। এই প্রথম যশ দাশগুপ্তের বিপরীতে দেখা যাবে এনা সাহা কে। তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে দর্শক কাকে ছেড়ে কাকে দেখবে? যদিও পরিচালকের কথা অনুযায়ী দীর্ঘ দুই বছর আটকে রয়েছে অনেক বাংলা ছবি। এবার সেগুলো মুক্তি পাবে। দর্শকেরা ভালোবেসে যে ছবি দেখবেন সেটাই বাণিজ্য করবে। তবে লাভ কতটা হবে সেই নিয়ে সন্দিহান প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা।

 

তাঁদের মতে এমন কোনও সম্ভাবনা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। অজন্তা প্রেক্ষাগৃহের মালিক শতদ্বীপ বলেছেন,’ এটা বাণিজ্য না নোংরামো? ছবির নামে এক অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা হচ্ছে। পরিচালকরা একবারও ভাবছে না আমরা কিভাবে প্রেক্ষাগৃহ দেব। কারণ ছবির সংখ্যা বাড়লেও হলের সংখ্যা বাড়ছে না। কোন জনপ্রিয় হলে তাকে হল থেকে নামিয়ে নিতে হবে পরের ছবিকে জায়গা দেওয়ার জন্য। এর সঙ্গে রয়েছে হিন্দি ইংরেজি দক্ষিণী ছবি।’

 

বিরক্তির সুরে তিনি আরো বলেন,’ প্রতি সপ্তাহে একটি বা দুটি করে বাংলা ছবি মুক্তি পেলে দর্শক বিভ্রান্ত হন না। কলকাতার হ্যারি, মিনি, এক্স ইকুয়াল টু প্রেম, জালবন্দী ,বেলাশুরু,অপরাজিত,আয় খুকু আয়,শবর একের পর এক মুক্তি পাচ্ছে বাংলা ছবি। অন্তত আট থেকে দশটি বাংলা ছবির মুক্তি পেতে চলেছে’। টলিউডের বাণিজ্য বিশ্লেষক পঙ্কজ লাডিয়াও বেশ হতাশ। তাঁর দাবি,’ বলিউডের মতো টলিউডের প্রযোজকরাও পরপর ছবি মুক্তির দিন ঘোষণা করছেন। কলকাতার সমস্ত বড় প্রযোজনা সংস্থা গুলি মুখোমুখি বসুক। ভাগ করে নিক মুক্তির দিন। প্রতি সপ্তাহে দুটো করে বাংলা ছবির মুক্তি পায় তাহলে টক্কর দিতে পারবে। বলিউড এইজন্য সপ্তাহে একটি করে ছবির মুক্তি ঘটে যার ফলে বাণিজ্য ভালো হয়’।