এক ফোঁটা জল পেতে মর্ত্যে আসেন স্বর্গগতরা!

57

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ, বুধবার। মহালয়া। স্মৃতিতর্পণের দিন। কেউ গঙ্গার ঘাটে গিয়ে, কেউবা বাড়ির সামনের কোনও পুকুরে গিয়ে জলদান করবেন প্রয়াত পূর্বপুরুষকে। যে জলের জন্য বছরভর হা-পিত্যেশ করে বসে থাকেন আমাদের প্রয়াত প্রিয়জনেরা।

আশ্বিনের অমাবস্যাই মহালয়া। এদিন পিতৃপুরুষের উদ্দেশে জলদান করেন আমবাঙালি। যাঁরা স্বর্গগত, তাঁরাও উত্তর- পুরুষের হাতে জল পেতে মুখিয়ে থাকেন বছরভর। ধরাধামে তাঁরা আসেন এই সময়। কারণ এই সময় মর্তে হয় দুর্গাপুজো। স্বর্গ থেকে মর্তে পুজো নিতে আসেন মা দুর্গা। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে আসেন আমাদের প্রয়াত পূর্ব পুরুষরাও। সূক্ষ্ম শরীরে মর্ত্যের এই আনন্দযজ্ঞে শামিল হন তাঁরাও। যাঁরা বেঁচে রয়েছেন, তাঁরা যাতে পরিবারের হারিয়ে যাওয়া সদস্যদের মনে রাখেন, সেই জন্যই তর্পণের বিধান।

উত্তর-পুরুষের এক ফোঁটা জলে প্রয়াত পূর্ব পুরুষের তৃষ্ণা মেটে কিনা, তা জানা যায় না। তবে এটা তো ঠিক, কর্মব্যস্ত জীবনে যখন আমরা তাঁদের ভুলতে বসেছি, তখন বছরে এই একটা দিন অন্তত আমরা তাঁদের স্মরণ করি!

আমরা দেশ কিংবা বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের জন্মদিন পালন করি ঘটা করে। কিন্তু পিতৃ কিংবা মাতৃ শ্রাদ্ধ করি না। কারণ সে ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণকে শ্রদ্ধার সঙ্গে কিছু দান করতে হয়। যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের জন্য অকারণ খরচ করব কেন?

এমত তত্ত্বে যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁরা অন্তত তর্পণটা করেন। কারণ, এতে অল্প কিছু পয়সায় কাজ সারা যায়! তাছাড়া এটার মধ্যে একটা দেখনদারি ভাব ইদানিং হয়েছে। তর্পণের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিই লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের আশায়। এতে অবশ্য গেল গেল করার কিছু নেই। কারণ তবু তো একদিন হারিয়ে যাওয়া পূর্বপুরুষদের স্মরণ করলেন উত্তর পুরুষ! তবু তো একদিন এক ফোঁটা জল অন্তত পেলেন, জীবদ্দশায় যাঁরা এক মুঠো ভাত পাননি সংসারে! কিংবা যাঁদের ঠাঁই হয়নি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের এক কোণে! কিংবা যাঁদের জল দেওয়ার কেউ ছিল না তিন কুলে, কোনও কালে!