চিটফান্ড মামলায় তদন্তে টালবাহানা! কারণ জানতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মান্নান-সুজনের

11
bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে রাজ্যে তদন্তে কোনও অগ্রগতি হচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ‘নালিশ’ জানাল বাম-কংগ্রেস। চিটফান্ড ও নারদাকাণ্ড নিয়ে সিবিআই তদন্ত এগোচ্ছে না, কেন এই মামলার তদন্তে কোনও অগ্রগতি হচ্ছে না সেই প্রশ্ন তুলেই নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁদের মূল অভিযোগ, চিটফান্ড মামলায় প্রধানমন্ত্রী তদন্ত প্রক্রিয়ার যে গতির কথা বলেছিলেন তা একদমই বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

চিঠিতে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী দাবি করেছেন, একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী বাংলা সফরে এসেছেন। প্রতিবারই তিনি চিটফান্ড নিয়ে মুখ খুলে দোষীদের শাস্তির কথা বলেছেন। তিনি এও বলেছেন যে, কাউকে রেয়াত করা হবে না। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে এই মামলায় তদন্তের যা গতিপ্রকৃতি তাতে মামলায় যে কোনও অগ্রগতি হয়েছে বা হচ্ছে তা বোঝার উপায় নেই। কেন এই মামলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না তা জানতে চেয়েই সরব হয়েছেন তাঁরা।

মান্নান-সুজনের বক্তব্য, বাংলার চিটফান্ডের ঘটনা সকলের কাছে পরিস্কার। প্রত্যেকে জানে কী হয়েছে, কে করেছে। কিন্তু সব জানার পরেও এই মামলা নিয়ে কোনও গতিবিধি নেই। অভিযোগ, কোনওভাবে হয়তো সিবিআইকে মামলার গতি বাড়ানোতে অনুমতি দিতে গড়িমসি চলছে। প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যে চিটফান্ড নিয়ে বেশ তৎপর হয়েছিল সিবিআই। কিন্তু ভোট চলে যাওয়ার পরেই তা থিতিয়ে পড়ে। সেই সময়ে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানা ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি তো রাজ্যবাসীদের এখনও স্মরণে রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এখনকার মামলার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বাম-কংগ্রেস।

বেশকিছু মাসে আগে আবার শোনা গিয়েছিল যে, নারদা-সারদা মামলার অফিসারদের বদলি করা হবে। সেই নিয়ে বিস্তর জলঘোলা শুরু হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, অফিসারদের বদলি করে দিলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এতদিন তাঁরা যত পর্যন্ত তদন্ত করে এসেছেন, নতুন অফিসার আসার ফলে তার গুরুত্ব নষ্ট হতে পারে। তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হতে পারে এবং তা হলে মামলার ভবিষ্যত আরও পিছিয়ে যাবে। সিবিআই-এর অন্দরেও এই নিয়ে বিতর্ক বেঁধে যায়।