সরকারি নজরদারির পর কমার বদলে আলুর দাম বস্তাপ্রতি বেড়ে গিয়েছে ৩০-৫০টাকা!

8
kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: একদিকে সরকার আলুর দাম ২৫ টাকা থেকে ২৭ টাকার মধ‍্যে রাখার কথা বলছে, অন‍্যদিকে মিড ডে মিল জন‍্য স্কুলগুলিকে সরকারি নির্দেশিকায় ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা দরে প্রতি কেজি আলু ক্রয় করার জন‍্য বলছে। সরকার নিজেই যদি এমন দ্বিচারিতা করে, তা হলে আলুর দাম কমবে কী করে?  প্রশ্ন আলু ব‍্যবসায়ীদের। অন‍্যদিকে,  আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে বাজারে নজরদারির চালাচ্ছে সরকার। কিন্তু দাম কমার বদলে উল্টে পাইকারি বাজারে বস্তা পিছু ৩০-৫০টাকা দামবৃদ্ধি পেল আলুর। দু’দিন আগে যেখানে জ‍্যোতি আলু বস্তা পিছু ১৩০০ টাকা পাইকারি দর ছিল, সেখানে আজ পাইকারি দর ১৩৫০ টাকা হয়েছে বস্তা পিছু। সরকারের নজরদারির ফলেই এই দামবৃদ্ধি বলে অভিমত আলুর আড়ৎদারদের।। কিন্তু সবজির সঙ্গে আলুর এই চড়া দামের কারণে ব‍্যাপক সমস‍্যায় সাধারণ মানুষ।

আমফানের ক্ষতির পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা অতিবৃষ্টির কারণে কাঁচা আনাজ নষ্ট হয়ে গিয়ে জোগানের অভাবে যেমন দাম বেড়েছে সবজির, তেমনই অতিরিক্ত চাহিদার জেরে চড়চড়িয়ে বাড়ছে আলুর দামও। চড়া দামে নিত‍্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছে মধ‍্যবিত্ত। বাজারে ৫০ টাকার নিচে যেমন কোন সবজি নেই, তেমনই আলু কিনতে গিয়েও লাগছে ছ্যাকা। হুগলি জেলা জুড়ে খুচরো বাজারে জ‍্যোতি আলু বিকোচ্ছে ৩০-৩২ টাকা দরে, চন্দ্রমুখী বিকোচ্ছে ৩৫-৩৭টাকা প্রতি কেজি দরে। কয়েকদিন আগেই আলুর অগ্নিমূল‍্যের কারণে ব‍্যবসায়ীদের সতর্ক করেছিল প্রশাসন। কিন্তু আলুর দাম না কমায় মাঠে নামতে হয়। দু’দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে নজরদারি। গত ৩ তারিখে সিঙ্গুর, হরিপাল, তারকেশ্বর-সহ বিভিন্ন জায়গার পাইকারি, খুচরো বাজারের পাশাপাশি হিমঘরেও অভিযান চালায় কৃষি বিপণন দফতর।  কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাতে মেলেনি কোনও সুফল। উল্টে আজকে সিঙ্গুরের পাইকারি বাজারে বস্তা পিছু ৩০-৫০টাকা বাড়ল আলুর দাম। আগামী দিনে আরও দাম বাড়তে পারে জানাচ্ছেন ব‍্যবসায়ীরা।

সরকারি নজরদারিতে সংরক্ষণকারীদের কোনও হেলদোল নেই। উল্টে জোগান কমিয়ে বাজারে বাড়িয়ে চলেছে আলুর দাম। সিঙ্গুরের আলু ব‍্যবসায়ী তথা সিঙ্গুর-রতনপুর আলু ব‍্যবসায়ী সংগঠনের সহ সম্পাদক প্রহ্লাদ মণ্ডলের বক্তব্য,  যারা বেশি করে আলু হিমঘরে মজুত করে রেখেছেন,  সরকার তাদের ধরুক। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। তা ছাড়া সরকার আলুর দাম নিয়ে নিজে দ্বিচারিতা করছে। সরকার একদিকে বলছে দাম কমিয়ে ২৫-২৭ টাকার মধ‍্যে আলু বেচতে। অথচ সরকারই মিড ডে মিলের জন‍্য স্কুলগুলিকে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরের মধ‍্যে আলু কিনতে নির্দেশ দিচ্ছে। এটা কী করে সম্ভব? সরকারই দাম বাড়িয়ে রাখছে। আবার, সরকারই বলছে আলু কম দামে বেচতে।

তা ছাড়া আগের তুলনায় ভিনরাজ‍্যে আলু যাচ্ছে প্রচুর। তার একটা বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে রাজ‍্যে। সেই সঙ্গে রাজ‍্যের চাহিদাও বেড়েছে। সব মিলিয়ে চাহিদা বাড়লেও জোগান কিন্তু তুলনামুলক ভাবে কম। তাই আলুর দম কমার কোনও সম্ভবনা নেই। সেই সঙ্গে ব‍্যবসায়ীদের দাবি, ভিনরাজ‍্যে আলু যাওয়া নিয়ন্ত্রণ হলে কিছুটা কমতে পারে আলুর দাম। না হলে বাজারে বাজারে ঘুরে কিছুই লাভ হবে না সরকারের। উল্টে সরকারের ভয়ে আলু বের করতে চাইছেন না সংরক্ষণকারীরা। ফলে জোগান কমেছে আলুর। তাতে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

হিমঘর মালিক সংগঠনের রাজ‍্য সভাপতি তরুণকান্তি ঘোষ জানান,  সরকারি নজরদারির পর সংরক্ষণকারীরা আলু স্টোর থেকে বের করতে চাইছেন না। ফলে দামটা কিছুট বেড়ে গিয়েছে। স্টোরে এবছর প্রায় ৫৬ লক্ষ মেট্রিক টন আলু লোডিং হয়েছিল। এর ৪৮ শতাংশ আলু এখনও মজুত আছে। তাতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আলু অনায়াসে চলে যাবে। কিন্তু হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সঙ্গে জোগান কমে যাওয়ায় আলুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।