দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ! কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নালিশ সুকান্ত-শুভেন্দুর

29

মহানগর ডেস্ক: ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বিজেপির অন্দরমহলের দ্বন্দ্ব। এবার সেই দ্বন্দ্বের মূল কান্ডারী দিলীপ ঘোষ বলেই অভিযোগ উঠল। সম্প্রতি রাজ্য কমিটিতে নাম না পাওয়ায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। আর সেখান থেকেই অন্দরমহলের কোন্দল আরও বেশি করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এবার দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী। তাদের অভিযোগ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি বিদ্রোহীদের উস্কানি দিচ্ছে। অর্থাৎ এর থেকেই বোঝা যায় যে ইতিমধ্যেই বিজেপিতে দুটি দল পরিণত হয়েছে। একটি শুভেন্দু-সুকান্ত, অন্যটির দিলীপ শিবির।

সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীর করা অভিযোগের পাল্টা মন্তব্য করেছে দিলীপ ঘোষের শিবির। তারা জানিয়েছে, দিলীপ ঘোষ হচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে সফল সভাপতি। লোকসভায় দারুন ফল এসেছিল দিলীপ ঘোষের সময়। বঙ্গ বিজেপিও ৭৭ জন বিধায়ক পেয়েছে তার সভাপতিত্বেই। এছাড়াও দিলীপ শিবির আরও অভিযোগ তুলেছে, দিলীপ ঘোষের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে নবীনরা। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বঙ্গ বিজেপিতে শুরু হয়েছে চরম বিদ্রোহ। একের পর এক কোন্দলের খবর উঠে আসছে প্রকাশ্যে। সময় বদলেছে তাই সুকান্ত-অমিতাভ নতুন কমিটিতে বেশ কয়েকজন পুরনো কর্মীদের বাদ রেখেছেন। যার কারণে বিদ্রোহ আরও তীব্র হয়েছে দলের অন্দরে।

দলের রাজ্য কমিটিতে তো বটেই, অধিকাংশ জেলা সভাপতি পদ থেকেও দিলীপ ঘোষের লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রেই দিলীপ ঘোষের শিবির বলছে, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। আর তারপর সেই টিমকে আমূল বদলে ফেলে নিজেদের মত কমিটি সাজিয়েছে অমিত মালব্য, অমিতাভ চক্রবর্তীরা। বর্তমানে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে রাগে ফুঁসছে বাদ পড়া নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর থেকে বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়, শঙ্কুদেব পন্ডার মত নেতাকর্মীরা। আর এইসব বিদ্রোহীদের নাকি মদত দিচ্ছে দিলীপ ঘোষ। সেই অভিযোগ নিয়েই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নালিশ জানাল সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী।