কূল ছাপানো চোখের জলে বৃদ্ধাশ্রমে বিদায় বিপন্ন পড়শিকে!

10

নিজস্ব প্রতিনিধি: পঁয়তাল্লিশ বছরের ভিটে ছেড়ে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে উঠতে হল বৃদ্ধাশ্রমে! স্থানীয় এক যুবক, পুলিশ এবং হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ওই বৃদ্ধার ঠাঁই হল পাঁচারুলের এক চিলতে হোমে। চোখের জলে প্রতিবেশীকে বিদায় দিলেন স্থানীয়রা।

বোটানিক্যাল থানার বাকসাড়ার এক চিলতে ভাড়া ঘরে বাস ছিল ঘোষ দম্পতির। স্বামী জ্ঞান ঘোষ কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর পাওনা টাকায় মোটামুটি সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন নিঃসন্তান ওই দম্পতি। বছর পাঁচেক আগে মৃত্যু হয় স্বামীর। তার পর থেকে একাই ছিলেন দিপালীদেবী। কালের নিয়মে এক সময় সঞ্চিত টাকা শেষ হয়ে যায়। সংসার চালাতে আয়ার কাজ নেন। লকডাউনে সে কাজও চলে যায়। এবার আসল লড়াই শুরু হয় দিপালীদেবীর। কোনও দিন আধপেটা, কোনও দিন না খেয়ে থাকা রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম প্রথম বেশ কিছুদিন স্থানীয়রাই জোগাচ্ছিলেন খাবার। এক সময় তাঁরাও আর সাধ্যে কুলোতে পারছিলেন না। এই সময় দেবদূতের মতো উপস্থিত হলেন স্থানীয় যুবক সুব্রত বসু। তিনিও চেয়েচিন্তে অনটন দূর করলেন পঁচাত্তর বছরের দীপালিদেবীর। শেষমেষ তাও বন্ধ হল।

অগত্যা সুব্রত দ্বারস্থ হলেন হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের। বোটানিক্যাল থানার পুলিশের সাহায্যে ওই বৃদ্ধাকে পাঠানোর ব্যবস্থা হয় পাঁচারুলের এক বৃদ্ধাশ্রমে।

এদিন নিজের চিলতে ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেন বৃদ্ধা। প্রতিবেশীরা তাঁর হাতে তুলে দেন কম্বল, মুড়ি, বিস্কুল। শেষমেশ আসে গাড়ি। বৃদ্ধাকে নিয়ে সেই গাড়ি পাড়ি দেন বৃদ্ধাশ্রমের দিকে। প্রতিবেশীদের দু চোখে তখন কূলছাপানো জল। গাড়ির ভিতর থেকে শেষবারের মতো এক পলক বৃদ্ধা পিছন ফিরে তাকান। সেখানে তখনও পড়ে ভাড়া ঘরের ভাঙা খাট, ভাঙা উনুন। পাঁচিলে বেড়ে ওঠা সবুজ আগাছাটা। চোখ মোছেন বৃদ্ধা। চোখ মোছেন তাঁর পঁয়তাল্লিশ বছরের প্রতিবেশীরা।

তাঁরা যে শুনেছেন বৃদ্ধাশ্রম বড় ভালো জায়গা নয়!!