‘ভারত বিরোধী’ ছাত্রদের জেলে পোরা উচিত, JNU থেকে নজর ঘোরাতে বার্তা অমিতের

7
kolkata bengali news

Highlights

  • জেএনইউ পড়ুয়াদের উপর রবিবার রাতে মুখোশধারীদের বর্বরোচিত হামলা
  •  ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে নামতে হল খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে
  • তিনি জানতে চান, ‘দেশ বিরোধী স্লোগান দেওয়া ছাত্রদের জেলে পোরা উচিত কি না?’

 

মহানগর ওয়েবডেস্ক: জামিয়া মিলিয়ায় পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের শিক্ষাঙ্গনে হিংসা। রবিবার রাতে একদন মুখোশধারি দুষ্কৃতী হামলা চালায় জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা হস্টেলে। আক্রান্ত হয় ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের বাঁচাতে গেলে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় অধ্যাপকদের ওপরও।

এই ঘটনায় সরাসরি ভাবে নাম জড়িয়ে গিয়েছে গেরুয়া ছাত্র সংগঠন এবিভিপির। নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। পদ্মশিবিরের ছাত্রদলের এহেন কাণ্ডে স্বাভাবিক ভাবেই চাপে বিজেপি শিবিরও। ফলে ঘটনার পর থেকেই পাল্টা দোষারোপের খেলা শুরু করেছেন তাঁরা। যদিও বৃহত্তর জনমানসে বিজেপির নিচের সারির নেতাদের যুক্তি ঠিক ধোপে টেকেনি। ফলে এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে নামতে হল খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। জেএনইউ থেকে নজর ঘোরাতে তাই কিছু ছাত্রকে সরাসরি ‘ভারত-বিরোধী’ তকমা দিয়ে বসলেন তিনি।

সামনেই দিল্লির বিধানসভা ভোট। সেই উপলক্ষ্যে সোমবার দিল্লিতেই এক জনসভা করেন অমিত শাহ। সেখানে সরাসরি JNU কাণ্ড নিয়ে মুখ না খুললেও ছাত্রদের ‘দেশ-বিরোধী’ অ্যাখ্যা দিয়ে দিলেন তিনি। সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি জানতে চান, ‘দেশ বিরোধী স্লোগান দেওয়া ছাত্রদের জেলে পোরা উচিত কি না?’

প্রসঙ্গত, পদ্মশিবিরের সিংহভাগ সমর্থকদের কাছেই যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, জেএনইউ বা জামিয়ার মতো দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে পদ্মশিবিরের প্রভাব কিছুটা কম, আদতে দেশ বিরোধিতার কারখানা। সেখান থেকেই ‘আর্বান নকশাল’রা বেরিয়ে আসেন। কয়েক বছর আগে এই জেএনইউতেই ‘দেশ-বিরোধী’ স্লোগান তোলার অভিযোগ উঠেছিল কানহাইয়া কুমার, উমর খালিদের মতো ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে। তাঁদের ‘ভারত বিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিয়োও খুব ভাইরাল হয়েছিল। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। যদিও তদন্তে জানা যায় ওই ভিডিয়োগুলি সব ফেক ছিল।

তবুও তারপর থেকেই দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিজেপি নেতা ও সমর্থকদের কাছে দেশদ্রোহীদের আখড়া। ফলে গতকালের ঘটনার পর চাপে থাকা অমিত শাহ নজর ঘোরাতে সেই ‘দেশ-বিরোধী’ অস্ত্রেরই পুনর্ব্যবহার করলেন। তাঁর অভিযোগ, দেশ বিরোধী স্লোগান তোলা ছাত্রদের গ্রেফতার করতে দিচ্ছেন না কেজরিওয়াল। সেই সঙ্গে দিল্লির বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, ‘কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কেজরিওয়াল নিজের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য দিল্লিতে কার্যকর হতে দিচ্ছেন না।’ পাশাপাশি, সিএএ ইস্যুতে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করছেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, এমনটাই অভিযোগ করেন অমিত শাহ।