অনলাইনে নাগরিকত্ব? মানুষ কম্পিউটার ভেঙে দেবে, মাথার চুল কামিয়ে দেবে: কেষ্ট উবাচ

7
kolkata bengali news

Highlights

  • সাইবার ক্যাফেতে নাগরিকত্ব হলে মানুষ কম্পিউটার ভেঙে দেবে। মাথার চুল কামিয়ে দেবে
  • রাজ্যবাসীর কোন তথ্য কেন্দ্রের কাছে নেই। তাই চিন্তার কোন কারণ নেই
  • পূর্বপুরুষের জন্মতারিখ মনে রাখা সম্ভব নয়। এখানে হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ হতে দেব না

নিজস্ব প্রতিবেদক, বীরভূম: ‘নো সিএএ, নো এনআরসি, নো এনপিআর’। এই শ্লোগান তুলেই আন্দোলনে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর নেত্রীর পিছুপিছু এর বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছেন কেষ্টও। রবিবার বীরভূমের রামপুরহাটে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল দলীয় সভা থেকে এনআরসি ও সিএএ নিয়ে বলেন, এনআরসি নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহে শেষ রক্ত বিন্দু আছে। ততদিন কোনও চিন্তা নেই।

কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানায় নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “দু’জন মুর্খ নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ। তারা নিজেদের ভারতবর্ষের শের ভাবছে? না, এই মুহুর্তে ভারতের মানুষ তোমাদের ঘেন্না করছে। ছিঃ ছিঃ করছে। শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরে কানাডা, ইংল্যান্ডে কেন মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে? ভারতবর্ষের মানুষ ভাবছে, কী ভুল করেছি! এত বড় ভুল হয়ে গেল! মানুষ বুঝতে পেরেছে খাল কেটে কুমির নিয়ে এলাম, সংশোধন তারাই করবে। খাল তারাই বোজাবে, কুমির চাপা পড়বে। নড়ন চড়ন হবে না। দু’টো অপদার্থ মাথা মোটাকে ভারতবর্ষের দায়িত্ব দিলাম! একটার নাম মোদী, আরেকটার নাম অমিত শাহ। খুব বাহাদুর! গুজরাট থেকে এলে, দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রী হলে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন শাহ। গুজরাটকে জ্বালিয়ে ছাড়খার করে দিলে। মুসলিম ভাইদের গুলি করে মেরে দিলে। আবার দিল্লীতে এসে গুজরাটের মতো করবে! আমরা ভ্যাড়া? আমরা বসে থাকবো? আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো! আমরা কিছু করবো না, ছেড়ে দেবো? মানবো না! প্রতিবাদ করবো! আন্দোলন করবো। শরীরের বিন্দুমাত্র রক্ত থাকতে এনআরসি করতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু-মুসলিম, আদিবাসী, সব এক সঙ্গে থাকবো। তুমি ভাগ করতে পারবে না। তুমি কি বলেছিলে বছরে দু’কোটি চাকরি দেবে! একটাও দাওনি। সারের দাম ভর্তুকি দেবে বলেছিলে!

শুধু রাজ্য নয়, গোটা দেশে এনআরসি হবে না বলে দাবি করেছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, মমতা আন্দোলন থেকে পিছোতে জানে না। তাঁকে চুলের মুঠি ধরে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মনে করিয়ে দেন অনুব্রত। কৃষি মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি বলছেন, দেশের নাগরিকদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। তাহলে, আগে আপনি পদত্যাগ করুন। কারণ যাদের আপনি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলছেন, তাদের ভোটে আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বছরের প্রথম দিন, আপনি মহিলাদের কি উপহার দিলেন? গ্যাসের দাম বৃদ্ধি? সবাইকে কি দিলেন? ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি? দেশের অর্থমন্ত্রী হয়তো বলবেন, আমি ট্রেনে চাপি না!’ সাংসদ অসিত মাল বলেন, ‘বিজেপির রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে উত্তরপ্রদেশে। মানুষের শান্তি মিছিলে গুলি চালাচ্ছে পুলিশ।’ ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, শুধু মুসলিম নয়, এই আইনে হিন্দুরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারো পক্ষে পূর্বপুরুষের জন্মতারিখ মনে রাখা সম্ভব নয়। এখানে হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ হতে দেব না।

অনুব্রত সিপিএম ও কংগ্রেসের সাধারণ ধর্মঘটকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এখানে ধর্মঘট কেউ মানবে না। এনআরসি নিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে।’ রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে কেন্দ্র অনলাইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার বন্দোবস্ত করছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে অনুব্রত বলেন, ‘সাইবার ক্যাফেতে নাগরিকত্ব হলে মানুষ কম্পিউটার ভেঙে দেবে। মাথার চুল কামিয়ে দেবে। রাজ্যবাসীর কোন তথ্য কেন্দ্রের কাছে নেই। তাই চিন্তার কোন কারণ নেই।’