অসমে নাগরিক তালিকায় বহু তথ্য উধাও, ইমেলে কারচুপি, কেন্দ্রকে তদন্তের আবেদন

15
kolkata bengali news

Highlights

  • অসমে এনআরসি তালিকা থেকে উধাও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • নড়েচড়ে বসেছেন সে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকরা
  • কেন্দ্রকে তদন্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে অসমের পক্ষ থেকে

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অসমে এনআরসি নিয়ে কম তোলপাড় হয়নি৷ এবার উঠে এল দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ অসমে এনআরসি বা নাগরিক তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, অভিযোগ, কারচুপি করা হয়েছে এনআরসি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ইমেল, আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছেন সে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকরা। “ইচ্ছাকৃতভাবেই গায়েব করা হচ্ছে” ওই সব তথ্য, এমনটাই মনে করছেন এনআরসির কাজের সঙ্গে জড়িত কর্তারা। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় কেন্দ্রকে তদন্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে অসমের পক্ষ থেকে।

সূত্রটি জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই ওই সংক্রান্ত তথ্য ও ইমেল ডিলিট করা হয়েছে বা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়েই অসম এনআরসি কর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলাকে বদলি করা হয় এবং তাঁর জায়গায় সেই সময় আসেন হীতেশ দেব শর্মা। অসম এনআরসির দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হতে পারে, কেননা আদালতের নির্দেশ মেনেই ওই নাগরিক তালিকা তৈরি হয়। তবে তার জন্যেও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করতে হবে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে ওই সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার জন্যে তদ্বির করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।

গত বছরের ৩১শে অগাস্ট এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই অসমের এনআরসি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ওই তালিকা দেখা যেত। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে সেই তালিকা আর দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে অসমের একটা বড় অংশের মানুষদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে যে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে নানা গুজবও ছড়াচ্ছে।

অসম এনআরসি কর্তৃপক্ষের সন্দেহ যে নাগরিকদের তালিকা তৈরির সময় আজুপি বড়ুয়া নামে একজন আধিকারিক জড়িত ছিলেন, যিনি প্রতীক হাজেলাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই ইস্তফা দিয়েছিলেন৷ তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। কেননা তিনি অফিসিয়াল ইমেল অ্যাকাউন্টগুলি অ্যাক্সেসের জন্য যে পাসওয়ার্ড ছিল তা কাউকে দেননি। ইতিমধ্যেই পাসওয়ার্ড শেয়ার না করার অভিযোগে এনআরসি আধিকারিকরা প্রাক্তন এনআরসি প্রকল্প পরিচালক ম্যানেজার আজুপি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে অসমের বিজেপি সরকার দাবি করছে যে চূড়ান্ত এনআরসি তালিকাটি “ত্রুটিপূর্ণ” এবং এই তালিকাটির “পুনরায় যাচাই করা” দরকার। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, এনআরসি ডেটা নিরাপদ৷ অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, ডেটা অনলাইনে দেখা যাচ্ছে না কারণ উইপ্রো ও এআরসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে৷ অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এনআরসি অফিস জানিয়েছে, উইপ্রো ৭০ কোটি টাকার বিল চার্জ করেছে৷