ISL: সুনীলের বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে জয়ের খোঁজে মরিয়া মোহনবাগান

21

মহানগর ডেস্ক: দুর্দান্ত ভাবে এবারের আইএসএল শুরু করলেও, ডার্বির পরই ট্র্যাক থেকে সরে গিয়েছে এটিকে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর টানা তিন ম্যাচে জয়হীন অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছাত্ররা। এই মুহূর্তে জয়ের খোঁজে মরিয়া বাগান শিবির। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সেভাবে ছন্দে না থাকা সুনীল ছেত্রীর বেঙ্গালুরু এফসির মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান।

তিন ম্যাচে জয় না পেলেও, হতাশাকে নিজের শিবিরে ঢুকতে দিতে চান না বাগান কোচ। তিনি মনে করেন এই জায়গা থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব এবং আইএসএলে আগেও এমন হয়েছে। সুনীল ছেত্রী ফর্মে নেই বলে তিনি যে খুশি, তাও নয়। হাবাস মনে করেন, এখনও সুনীলই সেরা। শেষ পাঁচ ম্যাচে জয় না পাওয়া বেঙ্গালুরু সম্পর্কে স্প্যানিশ হেডস্যার বলেন, ‍‘এ বারের আইএসএলের ম্যাচগুলো যদি লক্ষ্য করে থাকেন, তা হলে দেখবেন, প্রায় সব ম্যাচেই ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে সমতা এসেছে। তার পরে একটা জয়সূচক গোল হয়েছে। সব ম্যাচেই একটা মরিয়া ভাব দেখা যাচ্ছে। কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। আরও দু-তিন গোল করে দিচ্ছে কোনও কোনও দল। আমাদের স্থীরতা দরকার। দলের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। হার বা জিত তো থাকেই। আমি কোনও দলের মধ্যে বিশাল কোনও ফারাক দেখতে পাই না। এ কথা ভেবেই এটিকে মোহনবাগানে কাজ করি আমি।’

সুনীল ছেত্রীর ধার কমে গিয়েছে বলেই কি বেঙ্গালুরুর এমন বেহাল দশা। এই প্রশ্নের উত্তরে হাবাস বলেন, ‍‘সুনীল সর্বকালের সেরা। বেঙ্গালুরু এফসি এখন আর আগের মতো নাও থাকতে পারে। তবে সুনীল ভারতীয় ফুটবলে একজন কিংবদন্তি। এ দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে ও আদর্শ। ওর প্রতি আমাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। আমার মনে হয় না একটা দল একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে না। ফুটবল দলগত খেলা। রয় বা ছেত্রী একা দলকে জেতাতে পারে না। এটা আসল ফুটবল নয়।’ বিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে তাঁর মতামত, ‍‘বেঙ্গালুরু ভালো দল। ওরা কিছু খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে, যারা ভাল খেলতে পারছে না। সব দলের কোচই ম্যাচ জিততে চায়। সমস্যার সমাধান করতে হলে কোচকে খেলোয়াড়দের ওপরই নির্ভর করতে হবে।’

বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে পরিকল্পনা নিয়ে দু’বারের আইএসএল জয়ী কোচের বক্তব্য, ‍‘ভালো ডিফেন্স দরকার। মাঝে মাঝে শুধু ডিফেন্সই করে যেতে হয়। মাঝে মাঝে বলের দখল চলে গেলেও তা পুণরুদ্ধার করতে হয়। বল যদি আমাদের দখলে থাকে, তা হলে ওদের গোল করার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।’ তাঁর আশা, ‍‘এখনও অনেক খেলা বাকি আছে, অনেক পয়েন্ট জেতা বাকি আছে। এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদের বার করে আনার উপায় বা সুযোগও আছে। আমার মনে আছে ২০১৯-২০ মরশুমে চেন্নাইন এফসি সাতটা ম্যাচে হারার পরেও লিগ টেবলে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এমনকী ফাইনালেও খেলেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‍‘আমাদের উন্নতি করার চেষ্টা করে যেতে হবে। দুটো ম্যাচে হারার পরে দুটো ম্যাচে জেতাও যায়। লম্বা মরশুম রয়েছে সামনে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হতেই থাকে। তিনটে ম্যাচে আমরা জিততে পারিনি ঠিকই। কিন্তু এর পরে টানা তিন ম্যাচে জিততেও পারি।’

খবর রটেছিল, ফিজির জাতীয় দল থেকে ডাকা হয়েছে রয় কৃষ্ণাকে। তবে এই খবরের সত্যতা সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে হাবাস বলেন, ‍‘আমার কাছে এ রকম কোনও খবরই নেই। রয়কে ফিজির জাতীয় দলে যোগ দিতে বলা হয়েছে বলে মনে হয় না।’