Health care: শরীর ভালো রাখতে চান? ঠাকুরের মতো নিজেরাও জল-খাবার খান কাঁসার বাসনে

72

মহানগর ডেস্ক: বাঙালির জন্মদিন থেকে আইবুড়োভাত, পূজোর নৈবেদ্য থেকে শ্রাদ্ধের সরঞ্জাম সবটাতেই রয়েছে কাঁসার বাসনের চল। কিন্তু এই কাঁসার বাসন আগেকার দিনে নিত্যদিন গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু দিন বদলেছে। কাসার বাসনের জায়গা দখল করেছে সস্তার স্টিল, ফাইবার কিংবা কাঁচের বাসন। সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে আপনিও সে গুলো ধুয়ে মেজে আলমারি বন্দি করে রেখেছেন? ভাবছেন কোনও অনুষ্ঠান পড়লে আপনার সেই আটপৌড়ে কাগজ খানি ছিঁড়ে বার করে ফেলবেন? এখন তো কাঁসা ছাড়াই দিন চলে যাচ্ছে, বেকার কি দরকার? কিন্তু ভুল করছেন। দরকার অনেক। ঝটপট বের করুন আপনার এই অব্যবহৃত আলমারির এক কোণে ঠুলি বাঁধা কাঁসার বাসন গুলো। কারণ এইগুলি নিত্য ব্যবহার করলে আপনার শরীর থাকবে ঝকঝকে তকতকে।

কাঁসা তৈরি হয় ৭৮ শতাংশ তামা ও ২২ শতাংশ টিন দিয়ে। তাই এটি একটি উন্নতমানের ধাতু। কিন্তু কপার অথবা ব্রাস মেটালের পাত্র টক জাতীয় খাদ্য, লেবু, লবণ এর সংস্পর্শে আসা মাত্রই ক্ষতিকর বিক্রিয়া শুরু করে দেয়। আবার অন্যদিকে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার স্বাস্থ্যকে ভীষন ভাবেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। কিন্তু কাঁসা ব্যবহারে সে ধরনেরনেই কোনও ঝুঁকি নেই। তাই খাবার ও পানি রাখার জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ধাতু বলা হয় কাঁসাকে।

এই কাঁসার বাসন ব্যাবহারের রয়েছে একাধিক উপকারিতা। চলুন দেখা নেওয়া যাক সেগুলি কি কি?

  • কাঁসা পাকস্থলীতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই এই ধরনের পাত্রে রাখা খাবার খেলে সেই পাকস্থলীকে রক্ষা করা যায়।
  • কাঁসা যেহেতু একটি ধাতু তাই, এই কাঁসার গ্লাসে রাখা জল যদি পান করা যায় তাহলে শরীরের দূষিত পদার্থ বার করে লিভার ও কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতে ভীষণ ভাবে সাহায্য করে।
  • আগের রাতে যদি কাঁসার গ্লাসে জল রেখে সেই জল পরদিন সকালে পান করা যায়, তাহলে শরীরে তামার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি যেমন পূর্ণ করে তেমনই শরীরের কোষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • শরীরে তামার ঘাটতি দূর করায় মস্তিষ্কে থাকা নিউরনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও স্মৃতিশক্তির বাড়ে।
  • আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি বলছে, কাঁসার পাত্রে রাখা খাবার হার্ট অ্যাটাক, কোলেস্টরল এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়।

তাই দেরি না করে শরীরকে সুস্থ রাখতে শুরু করুন কাঁসার বাসনে খাওয়া দাওয়া।