গোমূত্র পান করিয়ে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে বিজেপি নেতা

36
news bengali kolkata

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: জাঁকজমক করে গোমাতা পুজো করেছিলেন বিজেপি নেতা। করোনা প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র পান করিয়েছিলেন স্থানীয়দের। পুলিশের মুখেও ঢেলে দিয়েছেন গোমূত্র। এত কিছু করে গেরুয়া শিবিরের সেই নেতার ভাগ্যে জুটল ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত।

১৬ মার্চ জোড়াসাঁকোতে সাড়ম্বরে গোমাতা পুজো করেছিলেন বিজেপি নেতা নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তারপরেই ঘটি ভর্তি গোমূত্র নিয়ে দলবলের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, করোনা প্রতিষেধক হিসেবে স্থানীয়দের বিতরণ করেন গরুর প্রস্রাব।

এক হোমগার্ডের মুখে ঢেলে দেন গোমূত্র। বলেন, করোনা ঠেকাতে অপরিহার্য গোমূত্র। যদিও পরে ওই পুলিশকর্মী এফআইআর করেন থানায়। দাবি করা হয়, তাঁকে চরণামৃত বলে গোমূত্র খাওয়ানো হয়েছে। অবশ্য অনেকেরই দাবি, তিনি জেনেশুনেই গোমূত্র পান করেছিলেন। পরে পরিস্থিতির চাপে তা অস্বীকার করতে বাধ্য হন।

এই ঘটনার পরেই জোড়াবাগান পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার করা হয় ওই বিজেপি নেতাকে। ১৭ মার্চ গ্রেফতারের পরে তাঁকে ১৮ মার্চ শিয়ালদা আদালতে তোলা হয়। বিচারক দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে ধৃতকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

করোনা’র প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র কার্যকরী বলে আদৌ প্রমাণিত নয়, দাবি চিকিৎসকদের। চিকিৎসকদের দাবি, মূত্র মানে রেচন পদার্থ। যা বর্জ্য। গোমূত্র অপরিশোধিত তাই পান করলে ছড়াতে পারে মারাত্মক সংক্রমণ। চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘করোনা ঠেকাতে গোমূত্রের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত নয়। বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না হলেও কারও কথায় কোনও কিছুকে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা মানে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।’

করোনা প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিবু গড়াই নামে ঝাড়গ্রামের এক ব্যবসায়ী। তাঁর গলায় ও বুক জ্বালা করতে শুরু করে। অসহ্য ব্যথা অনুভূত নয়। ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই ব্যক্তি।

করোনা প্রতিষেধক দাবি করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই শিবির করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ানোর খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেই শিবির বন্ধ করে দেয়। হুগলির ডানকুনির গোবর-গোমূত্র বিক্রতাকেও গ্রেফতার করা হয়। করোনা ঠেকাতে গোমূত্র বলে প্রচার চালানো ও পান করানোর জন্য গেরুয়া শিবিরের ওপর নজর কেন নেই রাজ্য সরকারের পুলিশের, তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এর পরেই গ্রেফতার করা হয় গেরুয়া শিবিরের এই নেতাকে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘সকলেই গোমূত্র খান। আমিও খেয়েছি। আবার খাব’। বলেছিলেন, প্রয়োজনে সকলেই খাবেন বলে দাবি করেন সাংসদ। গোমূত্র কার্যকরী ওষুধ বলেও দাবি করেছিলেন বিজেপির দাপুটে নেতা। তা শুনে মানস ভূঁইয়া কটাক্ষ করে ওই দিন বলেন, ‘ওনার চিকিৎসার প্রয়োজন’। গোমূত্র খাওয়ানো প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বিজেপির নাম না করে বলেছেন, ‘আফ্রিকার জঙ্গলের অনুকরণে এই সব করা হচ্ছে’।

৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের পর বিজেপি নেতা নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়কে ফের তোলা হবে আদালতে। দিল্লিতে হিন্দু মহাসভার সদর দফতরে ‘গোমূত্র পার্টি’র পরেই রাজ্যে যেন হিড়িক পড়েছে করোনা ঠেকাতে গোমূত্র পানের। অবৈজ্ঞানিক এই কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এরপরেই তৎপর হয় পুলিশ।