তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ডেকেও গরহাজির বিজেপির সদস্যরা, অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু দুই দলের মধ্যেই

26

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদা: তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ডেকেও গরহাজির বিজেপির সদস্যরা। ফলত সভাপতির পদে বহাল থাকলেন পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল সভাপতি মৃণালিনী মন্ডল মাইতি। আর যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের অন্দরে যে তবে কি নিজের পদ বাঁচাতে বিজেপি কে দিয়ে অনাস্থা ডাকানোর কৌশল করেছিলেন মৃণালিনী মন্ডল মাইতি? তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আর স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা ঘিরে অস্বস্তিতে বিজেপি এবং তৃণমূল নেতৃত্ব।

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির ১৮ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি আটটি করে আসন দখল করেছিল। দুটি আসনে জয়লাভ করেছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের দুই সদস্য তৃণমূলে যোগদান করায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করে ঘাসফুল শিবির। সভাপতি নির্বাচিত হন মৃণালিনী মন্ডল মাইতি। সম্প্রতি সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ডাকেন বিজেপির ছয়জন সদস্য। গতকাল ছিল সেই অনাস্থার তলবি সভা। কিন্তু বিজেপির অনাস্থা কারী কোনও সদস্যই হাজির না হওয়ায় বাতিল হয়ে যায় সেই সভা।

আর এই সভা বাতিল হতেই গোটা ঘটনা ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত। পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি হারেজ আলীর অভিযোগ,’সভাপতি পদে বহাল থাকতে বিজেপি সদস্যদেরকে দিয়ে অনাস্থা নিয়ে আসেন খোদ সভাপতি নিজেই। বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকে বিজেপির সাথে তার যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।’

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন মৃণালিনী মন্ডল মাইতি। তিনি বলেন,’এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। বিজেপি আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা ডেকেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই তাই তাঁরা মিটিংয়ে আসেননি।’

আর এই ঘটনা ঘিরে অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল এবং বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য জোড়াফুল শিবিরের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন যে বিষয়টি তিনি শুনেছেন। দল সব কিছুর ওপর নজর রাখছে। কেউ দলের গরিমা নষ্ট করার চেষ্টা করলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এই বিষয়ে মালদা উত্তরের বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি উজ্জ্বল দত্ত বলেন যে দল এই ধরনের বিষয়কে অনুমোদন দেয় না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল ব্যবস্থা নেবে।