অসহায়তা, ক্ষোভ এবং আতঙ্কে ফুঁসছে বউবাজার, মাথা গোঁজার সম্বল নিয়ে ঘর ছাড়া বাসিন্দারা

84

মহানগর ডেস্ক: বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎই বউ বাজার এলাকার বাড়িগুলোতে দেখা যায় বড়সড় ফাটল। রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। তাঁরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যথারীতি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলুস্থূলুস কান্ড তৈরি হয়েছে বউ বাজার এলাকায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়িগুলোতে নোটিশ পৌঁছায় মেট্রো ট্রেলের তরফ থেকে। আর তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে হয় স্থানীয়দের। তাঁদের দেওয়া হয় মাথা গোঁজার জন্য হোটেলে ঠাঁই। সেখানে মেলেনি রাতের খাবার।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রাগে ফুঁসে উঠেছেন বউবাজার এলাকার বাসিন্দারা। দাবি মাথা ঘোষের মতো ঠাঁই দিলেও গোটা রাতে একবারের জন্য কোনও খাবার দেওয়া হয়নি সরকারের তরফ থেকে। স্থানীয়দের কথায়, সারা মানুষগুলো কী খাবে তা নিয়ে ভাবল না মেট্রো। জানা গিয়েছে, এলাকার বাড়িগুলোর কারও দেওয়াল, কারও মেঝেতে লম্বা-চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে। এমনকি এলাকার এলাকার রাস্তাও আড়াআড়ি ভাবে ফেটে গিয়েছে বলে খবর। অন্তত আটটি বাড়িতে এই অবস্থা দেখা দিয়েছে।

বিপদজনক বাড়ি গুলির বাসিন্দাদের মেট্রো রেলের তরফে তাঁদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে যথারীতি ক্রিক রো এর হোটেল কিউ ইন এবং গণেশ চন্দ্র অ্যাভিনিউর ব্রডওয়ে হোটেলে। তবে কেন এই ফাটল? এর উত্তরে মেট্রো রেলের নির্মাণ বিশেষজ্ঞ পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানান, ‘ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর কাজের ফলে বাড়িগুলির নীচে থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এখানে মাটি এতটাই ভারী যে যন্ত্রাংশ গুলি ব্যবহারেও সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটে চলেছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগেও ২০১৯ সালে একই ভাবে একই জায়গায় দেখা দিয়েছিল ফাটল। সেবারও বাড়ি ছাড়া হতে হয়েছিল ওই এলাকার বাসিন্দাদের। কিন্তু বারবার এই গৃহহীন হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের কিছু জনের বক্তব্য, ‘আমরা তো হোটেলে ঘুরতে পারি না। তাই মাঝে মাঝে আমাদের মেট্রোর তরফ থেকে হোটেলে ঘুরতে আনা হয়।’