Home Featured Supreme Court: বুলডোজার-হিজাব বিতর্ক-জ্ঞানবাপী, ক্রমে চাপ বাড়ছে সুপ্রিম কোর্টের ওপর

Supreme Court: বুলডোজার-হিজাব বিতর্ক-জ্ঞানবাপী, ক্রমে চাপ বাড়ছে সুপ্রিম কোর্টের ওপর

by Anamika Nandi

মহানগর ডেস্ক: রাষ্ট্রদ্রোহ একটি ঔপনিবেশিক আইন। এটি স্বাধীনতাকে দমন করে। মহাত্মা গান্ধী ও তিলকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল এই আইন। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কী এই আইনের প্রয়োজন আছে? ২০২১ সালের জুলাই মাসে প্রশ্ন করেছিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা (NV Ramana)। এরপরই রমনার নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে পেগাসাস ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্যানেল তৈরি করেছিল। ২০২১-এর অক্টোবরে মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের জেদকে উপেক্ষা করে তাঁরা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল। এই ঘটনার একমাস পরেই লখিমপুর খেরি কান্ডের তদন্তে রায় দেওয়ার দায়ভার এসে পড়ল শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) ঘাড়ে। এখানে মূল অভিযুক্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে আশিস মিশ্র।

একের পর এক ঝামেলা হয়েই চলেছে। কখনও রাষ্ট্রদ্রোহ আইন, কখনও পেগাসাস, কখনও মন্দির-মসজিদ বিতর্ক তো কখনও বুলডোজার। ইদানিংকালে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের প্রচারাভিযান একটু বেশি বেড়ে গিয়েছে। কর্নাটকে হিজাব বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রাচীন মসজিদকে ভেঙে মন্দির গড়তে উদ্যোগী হয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। আবার বিক্ষোভ দেখালেই, অভিযুক্তদের বাড়িতে চলছে বুলডোজার। আর এই সমস্ত বিষয়ের সমাধান বার করতে হবে দেশের শীর্ষ আদালতকেই দিন দিন আরও চাপের মুখে পরছে সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন:চাপে পড়ে নয়া সিদ্ধান্ত! HS-র সব বিষয়ের উত্তরপত্রে হবে পুনর্মূল্যায়ন

এদিকে পরবর্তীতে প্রশ্ন উঠছে শীর্ষ আদালত কী সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? অন্যদিকে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এনভি রমনাকে চিঠি লিখেছেন ১২ জন আইনজীবী। যোগী রাজ্যে বুলডোজার চালিয়ে বাড়ি ভাঙার ঘটনায়, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। একদিকে হজরত মহম্মদ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গোটা দেশজুড়ে চলছে অশান্তি। এর আঁচ পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। ক্ষোভে ফেটে পড়ছে ইসলামিক দুনিয়া। বহিস্কৃত বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার মন্তব্যের বিরোধিতা করে UP-র নানা জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে মানুষজন।

যার পরই বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ বলে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সেরাজ্যের সরকার। বুলডোজার দিয়ে তাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। যেই কারণে রমনার কাছে চিঠি লিখেছেন আইনজীবীরা। তাদের বক্তব্য, এটা বেআইনি।

আরও পড়ুন: জেহাদি নেই,এমন দেশ কোথায়?প্রশ্ন তসলিমার

সূত্র অনুযায়ী, সেখানে নাম রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুদর্শন রেড্ডি সহ ভি গোপালা গৌড়া, একে গাঙ্গুলী ও হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের। তাঁদের দাবি, কথা শুনছেনা উত্তরপ্রদেশ সরকার। উল্টে হিংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে প্রশাসন। আইনজীবীদের ধারণা, এর দরুন মৌলিক অধিকার বিপন্ন হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে গিয়ে দোষীদের আরও উস্কে দেওয়া হচ্ছে যোগী রাজ্যে। তাঁদের কথায়, সাংবিধানিক অধিকারকে হাস্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

You may also like