আগ্রহ হারাচ্ছে জাপান, পাঁচ বছর পিছিয়ে যাচ্ছে মোদীর স্বপ্নের বুলেট ট্রেন প্রকল্প

4
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কথা ছিল ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে বুলেট ট্রেনের চাকা গড়াবে। তবে করোনাভাইরাস সংকট ও জমি অধিগ্রহণ জনিত কিছু মামলার ফাঁসে সেই মেয়াদ আরও পিছিয়ে যেতে চলেছে। সর্বভারতীয় সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে খবর, এই প্রকল্পটি পাঁচ বছর পিছিয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ফলে বলা চলে, যে কারণেই হোক না কেন নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প বুলেট ট্রেনে আপাতত ব্রেক লেগে গিয়েছে।

এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রের পালঘর এবং গুজরাটের নবসারির মতো এলাকায় জমি অধিগ্রহণের নিয়ে কিছু জট সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, গতবছর নির্মাণকারী সংস্থা টেন্ডার ডাকলেও করোনার কারণে সেই কাজ এগোন যায়নি। ফলে ২০২৩-এর মধ্যে এই প্রকল্প যে সম্পূর্ণ হচ্ছে না সেই সম্পর্কে একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বুলেট ট্রেন প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন ৬৩ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করে ফেলেছে। যার মধ্যে ৭৭ শতাংশ গুজরাটে, ৮০ শতাংশ দাদরা নগর হাভেলি ও ২২ শতাংশ মহারাষ্ট্রে শামিল রয়েছে। এই প্রকল্পে ২১ কিলোমিটারয়ের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সেকশন রয়েছে যার মধ্যে ৭ কিলোমিটার সমুদ্রের ভেতর দিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু জাপানি সংস্থার তরফে এই বিষয়টি নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখানো হচ্ছে না। জাপানি সংস্থার আগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে এমনিতেই বুলেট ট্রেন প্রকল্প স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। উপরন্তু করোনাভাইরাস এসে যেন সেই প্রকল্পে পুরোপুরি ব্রেক কষে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই স্বপ্নের প্রজেক্ট বুলেট ট্রেন মুম্বই থেকে আমেদাবাদ পর্যন্ত চলার কথা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা রয়েছে। যার মধ্যে ৮৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে জাপান ভারতকে দেবে বলে জানিয়েছে। এই ঋণ শোধ করার জন্য ভারত ৫০ বছর সময় পাবে। ০.১ শতাংশ সুদের হারে ঋণ ফেরত দিতে হবে ভারতকে। যার মধ্যে ১৫ বছরের একটি গ্রেস পেরিয়ড রয়েছে। অর্থাৎ বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার ১৫ বছর পর থেকে ঋণ মেটানো পালা শুরু করবে ভারত। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে এই প্রকল্পের কাজ আবার কবে জোরকদমে শুরু হবে তা নিয়ে একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছে।