গীতশ্রীর প্রয়াণে শোকোস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, মানতে পারছেন না খবরটা, আগামীকালই ফিরে আসছেন কলকাতায়

50

মহানগর ডেস্ক: আবারও সুরের জগতে নক্ষত্র পতন। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা। হঠাৎই মঙ্গলবার ৯০ বছর বয়সে কলকাতায় বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। ভেঙে পড়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেনে নিতে পারছেন না খবরটা। কোনও রকম ভাবে নিজের উত্তরবঙ্গ সফরে কাটছাঁট করে আগামীকালই ফিরে আসছেন কলকাতায়। তিনি ঘোষণা করলেন আগামীকালই গীতশ্রীকে সসম্মানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর পেয়ে খানিকটা ভেঙে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, ‘আমি মনে করি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় একজন ভারতরত্ন। একটা শতাব্দীর আর কেউ রইলেন না। আমি ভাবতেই পারছি না। কোভিড থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আস্তে আস্তে সেরে উঠছিলেন। হঠাৎ একদিনে কী হল জানি না। খবরটা শুনেই খুব খারাপ লাগছে। সন্ধ্যাদি আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। আমাদের সব অনুষ্ঠানে তিনি আসতেন। একটা ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, বোঝানো যাবে না। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি এখনও মনে করি গীতশ্রী সন্ধ্যো মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন।’

গীতশ্রী মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীত জগতে শিল্পী হৈমন্তী শুক্লা বললেন, ‘সন্ধ্যাদির সঙ্গে আমার খুব ভালো একটা সম্পর্ক ছিল। তিনি মাঝে মাঝেই আমায় ফোন করতেন। আমাদের মধ্যে গান নিয়ে খুব কথা হতো। সন্ধ্যাদির প্রতি আমার ভালোবাসা, আমি কথায় ব্যক্ত করতে পারব না।’

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পরলোকে গমন নিয়ে শিল্পী রূপঙ্কর বাগচী বললেন, “খুবই খারাপ লাগছে। বাংলা গানের জগতে উনি একজন লেজেন্ড। মাথার উপর থেকে বটের ছায়া চলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হচ্ছে। উনি বড় গায়িকার চেয়েও বেশি আমদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। জিজ্ঞেস করতেন, কেমন আছি, কী করছি, কী গাইছি। কোভিডের সময় কতবার ফোন করেছেন। খোঁজ নিয়েছেন। উনি আমাকে ফোন করে খোঁজ নিতেন নিয়মিত। খুব খারাপ লাগছে। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।”

অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘ কখনও মনে হত মা, কখনও মনে হত দিদি বা বন্ধু। এমন সম্পর্ক ছিল। কি যে বলব বুঝতে পারছি না। গানের জগতের মাতৃবিয়োগ বলে না। তেমনই হল।’