ভারতের পাওয়ার গ্রিডে চিনা হ্যাকারদের হামলা, সফল হয়নি চেষ্টা, জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

42

মহানগর ডেস্ক: বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই লাদাখের ভারতীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রগুলিকে টার্গেট করেছে চিনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন হ্যাকাররা। এদিন বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, এমনই একটি তথ্য। যদিওবা চিনের এই অ্যাটাক সফল হয়নি বলে, খবর মিলেছে। বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা বুধবার দিন জানিয়েছে, পাওয়ার গ্রিডের হ্যাকিং করা নিয়ে নতুন করে বিরোধ শুরু হতে পারে ভারত ও চিনের মধ্যে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, “গত ৮ মাসে অন্ততপক্ষে সাতটি ইন্ডিয়ান স্টেট লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের নেটওয়ার্কে হানা দিয়েছে চিনা হ্যাকাররা। বিশেষ করে লাদাখের কাছাকাছি পাওয়ার গ্রিডগুলি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বেশি”। খবর মিলেছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত সেখানে হ্যাকিং হয়েছে। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চিনের মধ্যে পূর্ব লাদাখ সীমান্ত নিয়ে অস্থিরতা রয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে।

এমনকি সম্প্রতি চিনের বিদেশমন্ত্রী এসেছিলেন ভারতে। কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে। কিন্তু বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট বলছে, তারইমধ্যে চিনা হ্যাকারদের এই অনৈতিক কার্যকলাপ অব্যাহত ছিল। চিনা হ্যাকাররা মূলত নিশানা করেছিল উত্তর-ভারতের ভারত-চিন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত পাওয়ার গ্রিডগুলিকে।

সূত্রের খবর তদন্তে জানা গিয়েছে, “ভারতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারগুলি থেকে ডেটা চুরি করেছে চিনা রাষ্ট্র স্পনসর্ড কম্যান্ড ও কন্ট্রোল সার্ভারগুলি। এদিকে বলা হচ্ছে, এই তথ্য আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি চিনা হ্যাকারদের সম্পর্কেও তাদেরকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এদিন বিদ্যুৎ মন্ত্রী কে সিং সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, “লাদাখের কাছে বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রগুলি চিনা হ্যাকারদের টার্গেটে ছিল তার সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার আগেই জানত”।

তিনি বলেন, “দু’বার সেগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। আর তাতে চিনা হ্যাকারদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি”। গোয়েন্দা সংস্থা অনুযায়ী বর্তমানে খুবই শক্তিশালী চিনা রাষ্ট্রীয় স্পন্সরড হ্যাকাররা। তবে এদিকে খবর মিলেছে আবার, পাওয়াগ্রিডগুলি বাদে ভারতের ন্যাশনাল এমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম থেকেও তথ্য চুরি গিয়েছে। বেসরকারি গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, রিপোর্ট প্রকাশের আগে সরকারকে জানানো হয়েছে সব তথ্য। কিন্তু তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে।

বড় সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম রেকর্ডেড ফিউচার। তাঁরা মূলত বিভিন্ন রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট হ্যাকারদের সম্পর্কে তথ্য বার করে। তাঁদের দাবি, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে হাইপ্রোফাইল সাইবার অ্যাটাক। গতবছর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে এরকম সাইবার হামলা হয়েছিল। আবার অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ পরিবহন কেন্দ্রও হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।