করোনার থাবা শীর্ষ আদালতে, কোভিড পজিটিভ ৪ জন বিচারক

44

মহানগর ডেস্ক: করোনার হাত থেকে এবার রেহাই পেল না শীর্ষ আদালতও। করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে দুই সপ্তাহের জন্য ভার্চুয়াল শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েও লাভ হলো না কিছুই। আজ রবিবার দিন সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত ৪ জন বিচারক। পাশাপাশি ১৫০ জনেরও বেশি কর্মী সদস্য হয় করোনায় আক্রান্ত নয়তো বা কোয়ারান্টিনে।

এই মুহূর্তে আদালতে করোনা সংক্রমনের হার ১২.৫ শতাংশ। প্রধান বিচারপতি নিয়ে ৩২ জন বিচারকের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত চারজন। বৃহস্পতিবার দিন দুজন বিচারকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বরে আক্রান্ত একজন বিচারপতি। এরইমধ্যে মঙ্গলবার দিন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির ফেয়ারওয়েলের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। যেখানে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় সকলেই। এদিন তাঁরও কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা এবং অন্য চারজন সিনিয়ার বিচারপতি করোনা মহামারীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক সেরেছেন। যার পর সিজিআই জানিয়েছেন, “দুর্ভাগ্যবশত আবারও সমস্যা শুরু হয়েছে এবং আমরাও এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। মনে হচ্ছে আমরা আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে মামলা শুনতে পারবো না”। এরপরই দুই সপ্তাহের জন্য ভার্চুয়াল শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে।

যেভাবে ভারতে করোনা আর ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, তাতে চিন্তিত চিকিৎসকরা। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা দেশ। এমনকী রেহাই পেল না ভারতের শীর্ষ আদালতও। প্রশাসনের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি থেকে কার্যকরী বেঞ্চগুলি আবাসিক অফিসে বসবে শুধুমাত্র অত্যন্ত জরুরী বিষয়ে যেমন- জামিন সংক্রান্ত, অবস্থান সংক্রান্ত ও আটক সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কাজ হবে আদালতে।

এর আগে ২০২০-তে করোনা মহামারীর জেরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার শুনানি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। অনেকটা সময়ের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেলে শারীরিকভাবে মামলার শুনানির দিকে পা বাড়ায় শীর্ষ আদালত। কিন্তু এই মুহূর্তে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে করোনা আর তার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যদিওবা সুস্থতার হার ঠিকঠাক।

কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতে একদিনে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৫৯,৬৩২-এ। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৩২৭ জন। গোটা দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। তবুও বর্তমানে এখনও পর্যন্ত করোনা সংক্রমনের মাত্রা কমেনি। বরং করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। আবার শীর্ষ আদালতে থাবা বসিয়েছে করোনা।