Custodial Death : পুরসভায় বিজেপি প্রার্থীর ভাইয়ের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ লালবাজারের

42
allegation of custodial death
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ।

মহানগর ডেস্ক: পুলিশ হেফাজতে ( Custodial Death) এক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে কলকাতা পুলিশের ( Allegation Against Kolkata Police) বিরুদ্ধে কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করল তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তির ওপর অত্যাচারের জেরেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ,দক্ষিণ কলকাতার গলফগ্রিন থানা এলাকার আজাদগড়ের বাসিন্দা বেয়াল্লিশ বছরের দীপঙ্কর সাহাকে পুলিশ হেফাজতে চারদিন ধরে প্রচণ্ড অত্যাচার করা হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে পুলিশ ( Primarily Denied The Allegation By Police) তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে কলকাতা পুলিশের সিনিয়ার অফিসাররা পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকৃত তদন্তের আশ্বাস দেন।

মৃতের পরিবারের দাবি গত শনিবার দীপঙ্করকে ভুয়ো অভিযোগে গলফগ্রিন থানার পুলিশ গ্রেফতার করে বেধড়ক মারধর করে। তারপর বৃহস্পতিবার মাঝরাতে টালিগঞ্জের এমআর বাঙুর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। গোটা ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া ভিডিওয় তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের মদ্যপানের অভ্যেস ছিল। মদ্যপ অবস্থায় চার বন্ধুর সঙ্গে সে কাছাকাছি একটি এলাকায় বসেছিল দীপঙ্কর। সেসময়ই তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে।

সূত্রের খবর পাঁচজনকে লকআপে না রেখে থানায় নিরাপদেই বসিয়ে রাখা যায়। গলফগ্রিন থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায় রাতে তাদের আধঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। রবিবার মাঝরাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। নিরাপদেই গলফগ্রিন থানা থেকে তারা বেরিয়ে যায়। পুলিশের দাবি তাদের নিরাপদে থানা ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। দীপঙ্কর শরীর খারাপের কথা জানানোয় তাকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিনই তাকে ছেড়ে দেয় হাসপাতাল।

পরের দিন দীপঙ্কর তার শরীর খারাপের কথা জানায়। বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন নিয়ে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন সকালেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি যদি তাকে রবিবার টানাহেঁচড়া, মারধর করা হয়,তাহলে চারদিন পর, বৃহস্পতিবার কীভাবে তার মৃত্যু হতে পারে। তার দেহের যে আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে, তা কোনওভাবেই চারদিনের পুরনো নয়। এর ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তির দাদা একজন বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তিনি পুরসভার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। পুলিশের পাল্টা অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে লালবাজার। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। যদি কোনও অফিসার দোষী প্রমাণিত হন,তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।