Delhi : নিজে ছিলেন শিশুশ্রমিক, আজ তিনি ‘বিশ্বকর্মা’ গড়ার কারিগর

80
'বিশ্বকর্মা' গড়ার কারিগর দিল্লির সেই 'স্যার'।

মহানগর ডেস্ক : তিনি দিল্লির (Delhi) একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাঁর ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে অসাধারণের ক্ষমতা। দিল্লির পথ-শিশুদের শিক্ষক তিনি। যিনি খুদেদের শিক্ষাদান করে থাকেন। তাঁর অসাধারণত্বের গল্প এখন ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। একটি জনপ্রিয় পত্রিকা ‘হিউম্যানস অফ বোম্বে’ তাঁর সেই কাহিনী তুলে ধরেছে সর্বসমক্ষে।

ছেলেবেলা কেটেছে শিশু শ্রমিক (Child labour) হিসেবে। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা ছিল ছোট থেকেই। বাবা ছিলেন পেশায় কৃষক। সেই কারণে বাবাকে সাহায্য করতে চাষাবাদের কাজে হাত লাগাতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কোনও প্রতিকুলতার কাছেই হার মানেনি তিনি। প্রতিদিন প্রায় ৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতেন। ‘ প্রতিদিনই অল্প করে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম আগামী দিনের পড়াশোনার জন্য । আমি আমার পরিবারের একমাত্র সন্তান যে উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি।’

তাঁর কোনও নাম নেই, কিন্তু আছে সপ্ন(Dream)। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তাঁর সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে।হঠাৎই ভেঙে পরেছিল বাবার শরীর।ফলে সব দায় এসে পড়েছিল তাঁর কাঁধে। জমানো অর্থটুকু দিয়ে করাতে হয়েছিল বাবার চিকিৎসা। একটা টাকার জন্য হাতরাতে হত পকেট। কার্যত নিঃস্ব হয়েগিয়েছিলেন সেই সময়। ‘বাবা যখন সুস্থ হলেন আমার কাছে একটা পয়সাও ছিলো না। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।’

মাত্র ২০ বছর বয়সে পারি দিয়েছিলেন দিল্লিতে। তখনও চোখে ছিল একরাশ স্বপ্ন। আর মনে ছিল পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা। নতুন করে পয়সা জমানোর জন্য তরুন বয়সে করেছেন বিভিন্ন ধরনের কাজ।কখনো তিনি দিল্লির রাজপথে বিক্রি করেছেন তরমুজ, কগনো হাত লাগিয়েছেন নির্মানের কাজে। ধীরে ধীরে তার লক্ষীর ভাড়ারে জমতে থাকে টাকা।

কথায় বলে সৎ থাকলে কপালও সঙ্গ দেয়। দিল্লিতে মেট্রো তৈরির কাজের সময় প্রায়ই সেই কাজ দেখতে যেতেন তিনি। কাছাকাছির মধ্যেই ছিল ছোট্ট একটি মুদিখানার দোকান। অবসর সময়টা সেখানে বসেই কাটাতেন তিনি। কাজ দেখতে দেখতে খেয়াল করেছিলেন কয়েকটি শিশু সেখানে শ্রমিকের কাজ করছে। এক নিমেষে চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল নিজের ছেলেবেলার ছবি । সেইসব শিশুদের জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছিলেন, টাকার অভাবে স্কুলের চৌকাঠে পৌঁছতে পারেনি তারা।

তখনই ঠিক করেছিলেন কিছু একটা করতে হবে এই বাচ্চাগুলোরজন্য।শিক্ষার আলো পৌছে দিতে হবে ওদের ঘরে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুরু করেছিলেন একটি পাঠশালা।দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন একটা ব্ল্যাকবোর্ড । চক দিয়ে লিখলেন ‘বিনামূল্যের পাঠশালা’। ধীরে ধীরে বিনামুল্যের পাঠশালায়ে বাড়তে থাকল ছাত্র-ছাত্রীসংখ্যা।নিজের অর্থেই কিনে দিয়েছেন বই ও অন্যান্য দরকারি জিনিসপত্র। লোকমুখে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ল স্যারের কথা।

নিজের স্বপ্নকে রূপ দিলেন বাস্তবে। একদিন তাঁরই এক ছাত্র এসে বলেছিল,’ স্যার আমি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চান্স পেয়েছি।’

সেদিন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি তিনি। বাধ ভেঙেছিল চোখের জল। ছাত্রকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন,’ তুই আমার স্বপ্ন সত্যি করেছিস। যেটা আমি পারিনি সেটা তুই করে দেখিয়েছিস।’

এই ভাবেই সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে উঠলেন তিনি। তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি এমন মহৎ কাজ করতে পারবেন। সে’রকম আমরাও জানি না আমাদের দৌড় কতটুকু। কিন্তু ছাইচাপা আগুন থেকে ফিনিক্স পাখি একদিন ডানা মেলবে ঠিকই।

Delhi

Read more,

“মোদি ছেড়ে দিদি, বুদ্ধবাবুকে ভালো না লাগলেই হল”, শ্রাবন্তীকে কটাক্ষ শ্রীলেখার