দাহ করতে বেশি টাকা দাবি, করোনায় মৃতদের পরিবার অসহায় যোগী-রাজ্যে

9

মহানগর ডেস্ক: দেশ জুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনার ঢেউ। আক্রান্তের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। দৈনিক করোনা আক্রান্ত আড়াইলক্ষ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২,৫৯,১৭০ জন। ১,৭৬১ জন গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গিয়েছেন। দেশে ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১,৫৪,৭৬১ জন। দেশে নজিরবিহীনভাবে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলছে লকডাউন, নাইট কারফিউ, সপ্তাহন্তে লক ডাউন। উত্তরপ্রদেশের অবস্থাও বেশ উদ্বেগজনক। সংক্রমণের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনই বেড়ে চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। তবে, মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে পড়েছেন মৃতের বাড়ির লোকেরা। বারাণসী, মণিকর্ণিকা, মিরাটের ঘাটগুলিতে মৃতদেহ দাহ করার জন্য চাওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য । না দিতে পারলে মৃতদেহ নিয়ে ফিরে যাওয়ার নিদানও দেওয়া হচ্ছে যোগী-রাজ্যে।

বারাণসী
বারাণসীর হরিশ্চন্দ্র ঘাটে রাজা সিং (৩৫) নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন তাঁর মামার শেষকৃতের জন্য দাবি করা হয়েছে ১১ হাজার টাকা। তিনি ঘাট কর্তৃপক্ষকে জানান, খরচ ৫ হাজার টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। তখন তাঁকে বলা হয়েছে মৃতদেহ নিয়ে চলে যেতে।
অন্য একজন ব্যক্তি জানান, প্রথমবার তাঁর কাকিমার মৃতদেহ নিয়ে এলে তাঁকে শেষকৃতের জন্য ২১ হাজার টাকা দিতে হয়, দিন কয়েক পর তাঁর ঠাকুমা মারা গেলে সেখানে শেষকৃতের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। তিনি আরও জানান, এই বিপুল পরিমানে অর্থ ব্যয় করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না তাঁর কাছে। তবে, এত পরিমানে অর্থ ব্যয় করার পরেও মিলছেনা পর্যাপ্ত কাঠ এবং বাকি সামগ্রী। কখনও আধপোড়া কাঠও দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মণিকর্ণিকা ঘাটেও বেড়ে চলেছে মৃতদেহের সংখ্যা। প্রাচীন শ্মশান ঘাটগুলিতে আগে সৎকার করতে খরচ হত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই ঘাটের কাঠ সরাবরাহকারী ব্যক্তি অরুন সিং জানিয়েছেন, বিগত কিছু দিনে কাঠের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। মৃতদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অযাচিত ভাবে বাড়ানো হয়েছে দাম। এমনকী শ্মশানের মাঠে জায়গা দেওয়ার জন্যও নেওয়া হচ্ছে বেশি টাকা।

মিরাট
একই ভাবে করোনা কালীন সময়ে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার ফলে মিরাটের শ্মশান গুলিতে বেশি করে নেওয়া হচ্ছে টাকা। সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা লাগত যেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

উপরোক্ত অভিযোগের পর পুরোহিতরা জানিয়েছেন, নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মৃতদেহগুলির সৎকার করেন তাঁরা। কোভিড সুরক্ষা মেনে চলার জন্য কোনও রকম পিপিই কিট তাঁদের দেওয়া হয়না। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভুল। মৃতের বাড়ির লোকেরা নিজেদের ইচ্ছা মত টাকা দেয়। তবে, এই অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন দামের নির্দিষ্ট হার মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।