কুণাল কামরার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছয় মাস থেকে কমে হল তিন মাস

30
national news
Highlights

  • মনে করা হচ্ছে, দিল্লি হাইকোর্টের চাপেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত
  • DGCA (অসামরিক বিমান নিয়ামক সংস্থাকে) সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আদালতকে
  • আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কমেডিয়ান কুণাল

মহানগর ওয়েবডেস্ক: পিছু হঠল বিমান সংস্থা ইন্ডিগো। স্ট্যাণ্ডাপ কমেডিয়ান কুণাল কামরার ওপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা ৬ মাস থেকে কমে হল ৩ মাসের। মনে করা হচ্ছে দিল্লি উচ্চ আদালতের চাপেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমাতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থা।

সূত্রের খবর, নিয়ামক সংস্থা এই সিদ্ধান্ত বিচারককেও জানিয়ে দিয়েছে। প্রায় মাস খানেক আগে, এক ভিডিও সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়। দেখা যায়, সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী প্লেনের সিটে বসে রয়েছেন। তাঁর দিকে ক্যামেরা তাক করে অনর্গল প্রশ্ন করে চলেছেন কুণাল। ‘কাপুরুষ’ বলতেও অবশ্য শোনা গিয়েছে। সেই দৃশ্য নিজেই শেয়ার করেছিলেন কমেডিয়ান। তাঁর দাবি, প্রথমে অর্ণবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অর্ণব তা চাননি। উল্টে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলেন কুণালকে। এরপরেই অর্ণব স্টাইল ফলো করে তাঁকেই আক্রমণ করেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান।

ঘটনার পরে এই কমেডিয়ানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইন্ডিগো সহ এয়ার ইন্ডিয়া, স্পাইস জেট, গো-এয়ার। তবে ভিস্তারা সহ একাধিক বিমান সংস্থা তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। ঘটনায় নেট দুনিয়া অর্ণব-কুণাল দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যায়। অনেকেই সমর্থন করেছেন কুনালকে। বিভিন্ন ভক্তদের দেখা যায় কুনালের যাতায়াতের জন্য সাহায্যের বার্তা দিতে। এক ট্যাক্সি চালক সাইনবোর্ড দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, কুণালের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি যাতায়াত। ইন্ডিগোর সিটে লিখে নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল কুণাল ভক্তরা। কুণাল আইনি নোটিশ দিয়ে বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞার জন্য অনেক শো অ্যাটেন্ড করার ক্ষেত্রে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে, বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কুণাল দাবি করেছিলেন, বিমান সনস্থাগুলোই আসলে আইন মানেনি। ইন্ডিগোর বিমান চালক নিজে বলেছেন, আইন বিরুদ্ধ কিছু করেনি কুণাল। তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে বিমান চালকের সঙ্গে কথা বলা হয়নি বলেও দাবি করেন পাইলট নিজেও। জানা যায়, বিমান সেবিকারা ওই ঘটনার পর কমেডিয়ানকে নিজের আসন গ্রহণ করতে বললে তিনি তা করেন। কারোর অসুবিধা হয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন কুণাল।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা নিজের সিটে না বসে অন্য বিমানযাত্রীর জায়গা জোর করে দখল করেছিলেন। নিজের সিটে যেতে বলায় বারবার তর্ক করেছিলেন প্রজ্ঞা। যার জন্য বিমান ছাড়তে দেরি হয়েছিল। সেই জন্য শাস্তি হল না কেন? অভিযোগ, বিজেপি ও বিজেপি ঘনিষ্ঠ হলে আইনের হাত লঘু হচ্ছে। অর্ণব গোস্বামীকেও অনেকেই বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছিলেন।
নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান। তারপরেই অসামরিক বিমান নিয়ামক সংস্থাকে আইনি নোটিশ পাঠায় আদালত। ঠিক এরপরেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানো হয়েছে বলে আদালতকে জানায় নিয়ামক সংস্থা।