‘এটা যদি আপনাদের কারও আপনজনের দেহ হত?’ ক্ষমা চাক সরকার, ফের টুইট রাজ্যপালের

35

মহানগর ওয়েবডেস্ক: পশুর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে মৃতদেহগুলোর সঙ্গে। দেহ সৎকারের সময় ন্যূনতম সম্মানটুকু জানানো হচ্ছে না। সম্প্রতি তারই এক ছবি তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। যাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সংঘাত। সেই আবহে রবিবার রাজ্য সরকারকে আক্রমণ নিয়ে পরপর তিনটি টুইট করে বসলেন রাজ্যপাল।

রবিবার বাংলায় টুইট করে তিনি লেখেন, ‘আঁকশি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে মানুষের দেহ নিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ, অকল্পনীয় দৃশ্য বহুদিন অমলিন থাকবে। @MamataOfficial এর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। এই বর্বরতার কলঙ্ক মোছা মুশকিল। মৃতদেহ সৎকার একটি পবিত্র কর্ম।’ এরপর আরও একটি টুইটে তিনি লেখেন, ‘সেই ভিডিওগুলি নকল বলা ক্ষমাহীন ভুল। ওই দেহগুলির প্রতি নির্লজ্জ অপমান। @MamataOfficial এর দূর নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা মানুষের ক্রোধ বুঝতে পারছেন না। এ নিয়ে কিছু বলার আগে ভাবুন, যদি ওই ১৪ জনের কেউ এক জন আপনার নিকট কেউ হতেন?’

তবে এখানেই থেমে যাননি তিনি। আরো এক টুইটে, গোটা ঘটনার জবাবদিহি চেয়ে তিনি লেখেন, ‘রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং কলকাতা পুরসভার কাছে যা জানতে চেয়েছি, আশাকরি দ্রুত তা জানানো হবে। আশা করি, পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম পরিস্থিতি জানিয়ে যাবেন। সংবেদনশীল এবং আবেগপূর্ণ এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার মূল্য ‘এমএপি’ত্রয়ীকে দিতে হবে।’ প্রসঙ্গত, গড়িয়া শ্মশান ঘাটে মৃতদেহ সৎকার কে কেন্দ্র করে বিতর্ক চরমে উঠেছিল। এই প্রেক্ষিতে পুরো প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিমকে ত্যাগ করেছিলেন রাজ্যপাল। যদিও তিনি না গিয়ে রাজভবনে পাঠানো হয় পুরো কমিশনার বিনোদ কুমারকে। তিনি অবশ্য রাজ্যপাল কে জানিয়ে দেন দেহগুলি করোনা আক্রান্তদের নয়।

এরপর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান রাজ্যপাল। তাদের তরফ রাজভবনের চিঠি দিয়ে জানানো হয় বেওয়ারিশ দেহ সৎকার এর ক্ষেত্রে আইন বদলের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি এটাও জানানো হয় করোনা মহামারীতে মৃতদেহ সৎকারে আত্মীয়দের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নয়া তৈরি করা হয়েছে। এর মাঝেই অবশ্য রাজ্যপালকে আক্রমণ নিয়ে বসেন মহুয়া মিত্র, দীনেশ ত্রিবেদীর মত তৃণমূল নেতারা। সেই আবহেই এদিন ফের টুইট করে বসলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর।