ফের হাতির তাণ্ডবে জীবন থামল জঙ্গলমহলে

154

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর: ফের খাবারের খোঁজে বুনো দাঁতাল হাতির দল ঢুকে পড়ল লোকালয়। তাদের বিক্ষিপ্ত তাণ্ডবে মারা গেলেন মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম এলাকার দুই গ্রামবাসী। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গ্রামের ফসল থেকে মিড ডে মিলের চাল ও সামগ্রী। ঘটনায় অভিযোগের তির বনদপ্তরের দিকে উঠলেও তারা তা মানতে নারাজ। দাবার বোর্ডের মত কোনাকুনি নয় সমগ্র গ্রাম জুড়ে ঘটেছে হস্তিবাহিনীর দাপাদাপি, যার জেরে আতঙ্কে ভুগছেন গ্রামের মানুষজন।

হাতি মেরে সাথি বা দামুর মতো হাতিরাই যখন হিংস্র হয়ে ওঠে, তখন তার রূপ যে কি রকম হয় তা দীর্ঘদিন ধরে টের পাচ্ছেন মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মানুষরা। খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে বুনো দাঁতালদের হামলা গ্রামবাসীদের ওপর। বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা ছাড়াও দুটি বিদ্যালয় ভেঙে মিড ডে মিলের চাল ও সামগ্রী লুট করে খেয়েছে হাতির দল। প্রথমে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম থানার চাঁদাবিলা এলাকায় বুধবার বিকেলে ওই হাতির দলকে ফসলের ক্ষতি করতে দেখে তাদের তাড়ানোর উদ্যোগ নেয় গ্রামবাসী। পরে সন্ধের সময় ওই হাতির দলের একটি অংশ গ্রামে ঢুকে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা নগেন মাহাতো ও সমীর মাহাতোকে সামনে পেয়ে তাদের শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালেই সমীর মাহাতো(৩৫) মারা যান। চাঁদাবিলা রেঞ্জের বনকর্মী বিশ্বেশ্বর জানা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে হাতির একটি দল এই এলাকায় ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই নয়াগ্রাম থানা এলাকার বিভিন্ন জঙ্গল গুলিতে প্রায় পঞ্চাশটি হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ দিনের হামলার ঘটনার পরে অনেক রাত পর্যন্ত ওই দাঁতালের দলটিকে এলাকাছাড়া করানোর চেষ্টা করেছে বনদপ্তর।

অন্যদিকে হাতির হামলার অপর ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া রেঞ্জ এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাত একটা নাগাদ হাতির দল রোজকার মতো চাপাশোল ঝরিয়া এলাকায় কৃষকদের জমিতে নেমে পড়েছিল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে দেখে গ্রামবাসীরা হুলা নিয়ে হাতিগুলিকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। ওই বিক্ষিপ্ত হাতিরা পাশেই সুন্দরলাটা গ্রামে ঢুকে অমূল্য মাহাতো(৭৫)কে সামনে পেয়ে তাকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। তিনি ওই সময় বাড়ি থেকে বাথরুমে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে ছিলেন বলে তার পরিবারের দাবি।