অষ্ট্রেলিয়ার দাবানলে পুড়ে ছাই অর্ধেক বন্যপ্রাণ! অনুদানের মাধ্যমে পাশে থাকার আর্জি দিয়া-ভূমির

5
bollywood

Highlights

  • দিয়া ছাড়াই ভূমি পেডনেকার ও শিবানি ডান্ডেকার সোশ্যাল মিডিয়াতে আর্জি জানিয়েছেন
  • এর ফলে দাবানল ভয়াবহ আকার নিয়ে নিয়েছে
  • গত বছর আমাজনের অরণ্যে বিধ্বংসী আগুন দেখেছিল গোটা বিশ্ব

 

মহানগর ওয়েবডেস্ক: গত বছর আমাজনের অরণ্যে বিধ্বংসী আগুন দেখেছিল গোটা বিশ্ব। সেই নিয়ে বেশ হইচইও হয়েছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর থেকে যে দাবানলের গ্রাসে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ, সেই দিকে অনেকেরই ভ্রূক্ষেপ নেই। প্রথম দিকে এই আগুন নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা না থাকলেও এখন অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশ এই ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে।

প্রতিবছর গরমকালেই অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে দাবানল হয়। কিন্তু এবার তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এবার অস্ট্রেলিয়ায় যে ভাবে গরম পড়েছে, তা কস্মিনকালেও পড়েনি। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় খরা। শুকিয়ে গিয়েছে মাইলের পর পাইল তৃণভূমি, অরণ্য। এর ফলে দাবানল ভয়াবহ আকার নিয়ে নিয়েছে।

হাওয়ার জোরে সেই আগুন ছড়িয়েছেও দ্রুত হারে। এখনও পর্যন্ত ১৫০০ বাড়ি এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মারা গিয়েছেন ১৭ জন মানুষ। এছাড়া ২৮ জন এখনও নিখোঁজ। আর এই ঘটনায় জলবায়ুর পরিবর্তনের কথাই মাথায় ঘুরছে সকলের। দাবানলের দাপটে অষ্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়েছে। প্রাণ গিয়েছে অবলা পশুদের। আর এই ঘটনা নিয়ে এদিন মুখ খুলেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানিয়েছেন, ”এটা কিন্তু সত্যিকারের ঘটনা। এগুলি বন্ধ করতে হবে, আমরাই পারি বন্ধ করতে। পাশে থাকুন। একসঙ্গে জোট বাঁধুন। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখতে হবে, প্রকৃতির উপর দান করুন। বন বাঁচান, গাছ লাগান, নিজেদের ইচ্ছায় একাধিক গাছ লাগান। ভয় পাবেন না, দৌড়ে পালাবেন না।” দিয়া ছাড়াই ভূমি পেডনেকার ও শিবানি ডান্ডেকার সোশ্যাল মিডিয়াতে আর্জি জানিয়েছেন অষ্ট্রেলিয়ার এই আগুনে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে অনুদানের মাধ্যমে তার পাশে দাঁড়াতে। নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনের গ্রাসে। সেই আগুনের ফলে যে ধোঁয়া তৈরি হচ্ছে, তাতে ঢেকে গিয়েছে সিডনি, মেলবোর্নের মতো শহর। এমনকি নিউজিল্যান্ডের একটি পর্বতের ওপরের বরফও আগুনের ছাইয়ে ঢেকে গিয়েছে।

আর এই বিধ্বংসী আগুনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণ। সিডনি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্রিস ডিকম্যানের রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি পশুপাখি এই আগুনে হয় মারা গিয়েছে, নাহয় ক্ষতিগ্রস্ত। অস্ট্রেলিয়ার এক প্রাণীবিদ জানিয়েছেন, ওই আগুন এতই দ্রুত ছড়াচ্ছে যে অধিকাংশ প্রাণীই তা থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারছে না। বড় ক্যাঙ্গারু বা এমু পাখি তাও একটু পালাতে সক্ষম। কিন্তু কোয়ালার মতো অস্ট্রেলিয়ার নেটিভ প্রাণী যারা জোরে দৌড়তে অক্ষম, তারা এই আগুনের শিকার হচ্ছে বেশি। এমনকি গাছে বসে থাকা অবস্থাতেই আগুনের গ্রাসে প্রাণ হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ পাখি। অস্ট্রেলিয়ার যেসব বাসিন্দারা বনাঞ্চলের কাছে থাকেন, তাঁরা জানিয়েছেন, এখন আগুনে পুড়ে যাওয়া গাছ থেকে শুধু ঝরে পড়ছে অসংখ্য পাখির ঝলসে যাওয়া দেহ। যদিও প্রশাসনের ভূমিকাতে আগুন আপাতত কিছুটা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।