জানা আছে কি কৌশিকী অমাবস্যার কথা?

74

ডেস্ক: আজ কৌশিকি অমাবস্যা। সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নেমেছে তারাপীঠে। হাজার হাজার ভকতা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। কত দূর থেকে তীর্থযাত্রীরা আসেন তারাপীঠে পূজো দিতে। শনিবার রাত ১:৫২ মিনিট থেকে পরের দিন রাত ১১:৪০ মিনিট অবধি এই অমাবস্যার সময়কাল রয়েছে। মায়ের পূজোর জন্য বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তদের জন্য প্রসাদ এবং সেই সঙ্গে ভোজের আয়োজনও করা হয়েছে।

আপনারা কি কেউ জানেন? এই কৌশিকী অমাবস্যার অপর একটি নাম হল তারা রাত্রি। অনেক সাধু, সন্ন্যাসীরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন তন্ত্র সাধনার জন্য। তন্ত্র সাধনার জন্য অনেক দূর দূর থেকে তান্ত্রিকরা আসেন নিজেদের তন্ত্র সিদ্ধি লাভের জন্য। অনেকে আবার বলে থাকেন, এই কৌশিকী অমাবস্যার রাতেই নাকি সাধক বামা ক্ষ্যাপা তারাপীঠ মহাশ্মাশানে আসতেন তন্ত্র সাধনার জন্য। তাই এই মহাশ্মশানকে সিদ্ধিপীঠও বলা হয়। শুধু বামা ক্ষ্যাপাই নন অনেক মহান সাধুরা আসতেন এই পীঠে নিজেদের সিদ্ধি লাভের জন্য। অনেকের মুখে শোনা যায়, এই দিনটিতে যদি তারা মার পূজো দেওয়া যায় এবং দ্বারকা নদীতে স্নান করা যায় তাহলে সব পাপ ধুয়ে যায়। আপনাকে পাপমুক্ত মন দিয়ে পূজো করতে হবে। তারা মাকে মন থেকে ডাকতে হবে। তাই আজকের দিনে মা তারাকে কৌশিকী রূপে তারাপীঠে পূজো করা হয়। তাই ভোর থেকেই ভক্তদের ভিড় নামে তারাপীঠে এবং তারা স্নান করেন দ্বারকা নদীতে। তাই পূজো উদ্যোগতারা এই কৌশিকী অমাবস্যার জন্য ভক্তদের জন্য শনি ও রবি এই দিন মন্দির খোলা থাকবে এবং তারা এই পূজো দিতে পারবেন।

এই কৌশিকী অমাবস্যা নিয়েও একটি গল্প রয়েছে, আপনারা হয়তো সবাই কেউ কেউ জানেন আবার কেউ কেউ নাও জানেন। বাহুল্য, স্বর্গে শুম্ভ-নিশুম্ভের অসুরের অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। এই অসুরদের হাত থেকে নিস্তার পেতে দেবতাগণ মহামায়ার তপস্যা শুরু করেছিলেন। তাঁদের এই গভীর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী কালী শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করেছিলেন। এরপর দেবী নিজের দেহের সব কালো দাগ ত্যাগ করেন এবং পূর্নিমার চাদের মতো সাদা রূপ ধারণ করলেন। সেই সঙ্গে তিনি হয়ে উঠলেন হয়ে উঠলেন কৃষ্ণবর্ণা দেবী কৌশিকী। এরপর কৌশিকী রূপেই তিনি ‘শুম্ভ’ ও ‘নিশুম্ভ’ নামের দুই অসুরকে বধ করেন। তাই আজকের দিনের এই বিশেষ তিথিতে মা তারাকে তারাপীঠে “কৌশিকী”” রূপে পূজা করা হয়।”