যৌতুকই ছিল খুনের আসল কারণ! জামাইবাবুর হাতে মৃত্যু হল ৬ বছরের শ্যালকের

49

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: জামাইবাবুর বাড়ি বেড়াতে এসে নিখোঁজ কিশোরের পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে থানারপাড়া থানার পুলিশ। দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিয়েতে যৌতুক হিসাবে মোটরবাইক না পেয়ে ক্ষোভে ৬ বছরের শ্যালককে ঝাল বড়া খাইয়ে গলা টিপে খুন করার অভিযোগ জামাইবাবু বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বছর ২৪-এর সোহেল শেখকে আজ গ্রেফতার করে পুলিশ।

অভিযুক্ত জামাইবাবুর বাড়ি থানারপাড়া থানা এলাকার সাহেবপাড়ার মালিতা পাড়ায়। মৃত শিশুটির নাম দিল ইসলাম (৬)। তাঁর বাড়ি বিহারের পূর্ণিয়া জেলার গটপুর গ্রামে। সাড়ে তিন মাস আগে বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা মহাম্মদ মনিরুলের মেয়ে শাহাজাদী বিবির সঙ্গে বিয়ে হয় সোহেলের। বিয়ের সময় শশুরের কাছে সোহেলের দাবি ছিল, যৌতুক হিসাবে একটি মোটর সাইকেলের। এই নিয়ে মাঝেমধ্যে শাহাজাদীর সঙ্গে ঝামেলা হত মাঝে মধ্যেই।

কয়েকদিন আগে সোহেলের বাবা সহিদুল শেখ বৌমাকে আনতে বিহারে যায়। বৌমাকে নিয়ে আসার সময় তার ছয় বছরের ছোট ভাই দিল ইসলাম দিদির সাথে আসার জন্য জেদাজেদি শুরু করে। বাধ্য হয়ে ভাই কে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে আসে শাহাজাদী বিবি।

সোহেলের প্রথম থেকেই দাবি ছিল, একটি মোটর সাইকেলের। বাবার বাড়ি থেকে আসার সময় সোহেলের স্ত্রী মোটরসাইকেল না নিয়ে এসে ভাইকে নিয়ে আসায় স্ত্রীকে মারধর করতে শুরু করে সোহেল। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ হয়। মাঝেমধ্যেই শ্বশুরকে মোটর সাইকেলের জন্য ফোনে চাপ দিত সে।

গত বুধবার বিকেলে ছোট্ট শালা দিল ইসলামকে নিয়ে ধোড়াদহ বাজারে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকে আর দিলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এই ঘটনার পর আসল ঘটনা চাপা দিতে এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ঘটনাচক্রে ধোড়াদহ বাজারে এক ব্যবসায়ীর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত্রি দশটা নাগাদ সাইকেলে করে শিশুটিকে কাঁধে নিয়ে জলঙ্গী নদীর দিকে যেতে।

সেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই সোহেল শেখকে পুলিশ শনাক্ত করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্বীকার করে, সে মোটরবাইক না এনে শ্যালককে আনার জন্যই ক্ষোভ করতে বাধ্য হয় সে শ্যালককে। খুনের পর জলঙ্গি নদী পেরিয়ে মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকার দিকে ফুলবাড়ি নদীর পাড়ে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেয়, বলে জানায় সে।