একুশের আগে নজরে পুরভোট, ঘুঁটি সাজাতে বৈঠকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম

10
firhad bengali news

Highlights

  • চলতি বছরের প্রথমার্ধেই কলকাতা পুর নিগমের ভোট হওয়ার সম্ভাবনা
  • ফের ছোট লালবাড়ি দখলের রণকৌশল ঠিক করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মেয়র
  • রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: চলতি বছরের প্রথমার্ধেই কলকাতা পুর নিগমের ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরভোটকে সামনে রেখে ফের ছোট লালবাড়ি দখলের রণকৌশল ঠিক করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করে পুর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। কলকাতা পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদও শেষ হবে চলতি বছরে। পুরভোটের রণকৌশল স্থির করতে কলকাতা পুরনিগমের ১৬ টি বরোতে দ্রুততার সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করছেন মেয়র। তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশও দিচ্ছেন। সোমবার কলকাতা পুরনিগমের ৫ নম্বর বরোতে এধরণের একটি বৈঠক করেন মেয়র। মূলত ওই বরোর অন্তর্গত ওয়ার্ড গুলিতে চলা বকেয়া উন্নয়ণমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কাউন্সিলরদের পুরবাসীর বিভিন্ন অভাব অভিযোগের দ্রুত সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকে তিনি বলেন, প্রয়োজনে কাউন্সিলরদের অভাব অভিযোগ কলকাতা পুরনিগমের সদর দ্প্তরে এসে তাঁকে জানাতে হবে। তাঁদের সেই সব অভাব অভিযোগ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এপ্রিলেই কলকাতা-সহ রাজ্যের ১১২টি পুরসভার নির্বাচন করাতে চায় রাজ্য সরকার। যদিও কলকাতা পুরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৮ মে। প্রাথমিক ভাবে রাজ্য সরকার এপ্রিলের মাঝামাঝি, অর্থাৎ প্রথমে কলকাতা পুরসভা ও তার ফলাফল ঘোষণার পরে বাকি ১১১টি পুরসভার নির্বাচন করার কথা ভাবছে। তবে রমজান মাস শুরুর আগে পুরভোট সম্পূর্ণ করতে চায় রাজ্য। ইসলাম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, রমজান শুরু হবে ২৪ অথবা ২৫ এপ্রিল থেকে।

নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রমজান চলাকালীন ভোট করতে নারাজ। একমাস ধরে সংখ্যালঘু মানুষের পরব চলবে। তার পরে বর্ষা এসে যাবে। তখন ভোট করতে সমস্যা। তিনি নিশ্চিত, লোকসভা ভোটের পর থেকেই দল কলকাতায় যে ভাবে জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়েছে, তাতে পুরভোটে অনেক ভালো ফল করা সম্ভব। বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস ও বামেরা শহরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য কিছু করে দেখাতে পারেনি। প্রশান্তের যুক্তি, কলকাতা পুরভোটের পরে সেই ফলাফল সামনে রেখে বাকি ১১১টি পুরসভা ভোট লড়া সহজ হবে। জেলা পুরসভাগুলিতে দলীয় কোন্দল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা যাবে কলকাতা পুরসভার ভোটের ফলাফল দেখিয়ে। কারণ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলায় বিজেপি সক্রিয়। এই সব এলাকায় নিচুতলায় বাম-কংগ্রেস এ বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের মদত রয়েছে বিজেপির পিছনে। কলকাতার লাগোয়া দুই বড় কর্পোরেশন হাওড়া ও বিধাননগর নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। যদিও দলের মধ্যে বিধাননগর ও আসানসোল কর্পোরেশনের ভোট নির্দিষ্ট সময়ে করার প্রস্তাবও রয়েছে।

এই মুহূর্তে হাওড়া-সহ রাজ্যের ১৭টি পুরসভার মেয়াদ একবছর আগে শেষ হয়েছে। বাকি ৯২টি পুরসভার মেয়াদ এপ্রিল অথবা মে মাসে শেষ হচ্ছে। বিধাননগর ও আসানসোল কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে অক্টোবরে। রাজ্যের শাসকদল সমস্ত পুরসভার ভোট একসঙ্গে করতে চায়।

যদিও ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে রীতি অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সরকারি ভাবে রাজ্য সরকার এখনও কিছু জানায়নি। কমিশন অবশ্য ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রতিটি পুরসভায় আসন সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মকর সংক্রান্তির জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম আরও কিছুটা সময় চাওয়ায় কমিশন ১৭ জানুয়ারি আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে নিয়মমাফিক ১৪ দিন সময় থাকবে আপত্তি জানানোর। ১০ ফেব্রুয়ারি সমস্ত পুরসভার আসন সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। এর আগেই ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়ে যাবে। কমিশন কর্তাদের মতে, আইন অনুযায়ী আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশের দশ সপ্তাহ পরে ভোট করতে কোনও সমস্যা নেই। মার্চেই শেষ হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ফলে সে দিক থেকেও এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তহে ভোট করায় কোনও সমস্যা নেই।