গ্রেফতার মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী, অমরাবতী কাণ্ডের জেরে বিজেপি নেতাকে হাজতে নিল পুলিশ

40

মহানগর ডেস্ক: সোমবার মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অনিল বোন্ডেকে অমরাবতীতে সহিংসতার ঘটনা উসকে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ১৩ নভেম্বর, মুসলমানদের সমাবেশের প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীদের ডাকা বনধ চলাকালীন বন্ধ দোকানগুলিতে পাথর ছুড়ে মারা হয়েছিল। কোতোয়ালি থানা থেকে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে একচেটিয়া ভাবে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁকে সকাল ৭ টা থেকে আটক রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সহিংসতায় সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে, তিনি এমভিএ সরকারকে রাজা একাডেমী রক্ষা করার জন্য, সংখ্যালঘু তুষ্টি নীতি গ্রহণ করার অভিযোগ করেন।

বিজেপি নেতা অনিল বন্ডে জানিয়েছিলেন, “গতকাল আমাকে গ্রামীণ পুলিশ আটক করেছিল। আজ, আমাকে সিটি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আসলে, এই মাসের ১২ তারিখে, ৪০,০০০ মুসলিম জনতা জড়ো হয়েছিল এবং তাঁরা অনেক দোকান ভেঙে দিয়েছে। তারা। অনেক লোককে মারধরও করে ছিল এবং তার পরেও তাঁরা তলোয়ার নিয়ে এসে পাথর ছুঁড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি শান্তিপূর্ণ বনধ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ডাক দেয়। তাতেও সৃষ্টি হয় উপদ্রব। তারা মুসলিম এলাকা থেকে তলোয়ার নিয়ে এসেছিল। আমি শহরে শান্তি ও নিস্তব্ধতার আবেদন জানিয়েছিলাম। তবে সম্ভবত এটাই রাজা একাডেমির পূর্ব পরিকল্পিত সহিংসতা। এবং এখন যেহেতু আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি, তাই ওঁরা বিজেপির সমস্ত কর্মীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে। আমাদের কণ্ঠকে চাপা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি সঙ্গে আরও যোগ করেন, “আমাদের আইনজীবীদের দল এখানে এসেছে। তারা এটা নিয়ে গবেষণাও করছে। আমরা দুপুর ১টার মধ্যে জামিনের আবেদন করার চেষ্টা করছি। পুলিশের অবস্থানের ওপর ভবিষ্যতের পদক্ষেপ নির্ভর করবে।”

শুক্রবার, ত্রিপুরায় কথিত সহিংসতার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের নাসিক, অমরাবতী এবং নান্দেদ জেলায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। অমরাবতী শহরে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথিত নৃশংসতা বন্ধের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে ৮,০০০ হাজারেরও বেশি মানুষ জেলা কালেক্টরের অফিসের বাইরে জড়ো হয়েছিল। এরপর চিত্রা চক ও কটন মার্কেটের মধ্যে তিনটি স্থানে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। বিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন সহিংসতার কারণে, অমরাবতী শহরে চার দিনের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছিল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

একদিন আগে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময়, মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ ওয়ালসে পাটিল মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা অবশ্যই এটি তদন্ত করব। ত্রিপুরায় যে ঘটনাগুলি ঘটতে পারে বা নাও হতে পারে তার জন্য মহারাষ্ট্রে যে সমাবেশগুলি হয়েছিল আমরা তা তদন্ত করব। এছাড়াও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। রিপোর্ট আসার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।”