ভিনরাজ্যে গণধর্ষণ বাংলার তরুণীকে, ধৃত জাতীয় স্তরের ৪ জন সাঁতারু

73

মহানগর ডেস্ক: আজকাল ভিনরাজ্যে চাকরি করতে গেলেও ভয় হয়। যদি কোনও বিপত্তি ঘটে। ছেলে-মেয়েকে বাইরে পড়তে পাঠানো বা চাকরি করতে ছেড়ে দেওয়া কতটা সুরক্ষিত? তা এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন চিহ্ন। এবার খবর মিলেছে, ভিনরাজ্যে নার্সের চাকরি করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার বাংলার তরুণী।

এদিনের খবর অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ওই তরুণী এবং অভিযুক্তরা জাতীয় স্তরের চারজন সাঁতারু। ইতিমধ্যেই তাঁর মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়ে গিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, একাই সেখানে থাকতেন বাংলার ওই মেয়ে। বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চাকরি করতেন নির্যাতিতা। কিন্তু এদিনের এই ঘটনা বদলে রেখে দিয়েছে তাঁর জীবন। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পর, সেই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। রজত নামের একটি ছেলের সঙ্গে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আলাপ হয় তাঁর। গত ২৪ মার্চ সেই যুবক তরুণীকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। তরুণী আমন্ত্রণ ফেরাতে পারে না। সেখানে যেতে সে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু পৌঁছে সে দেখে, ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিত হয়েছে রজত ছাড়াও আরও তিন যুবক। যার পরেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

নিজের বাড়িতে তরুণীকে ডেকে একে একে তাঁকে ধর্ষণ করে তাঁরা সকলেই। সারারাত ওই বাড়িতেই থাকেন তিনি। শেষমেষ কোনওমতে ফোনের মাধ্যমে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন সেই তরুণী এবং সেই বন্ধুই তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। তারপর সঞ্জয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। করানো হয় নির্যাতিতার মেডিকেল টেস্ট এবং সেখানে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। ইতিমধ্যেই গঠন হয়ে গিয়েছে পুলিশের একটি বিশেষ টিম। গ্রেফতার করা হয়েছে একে একে চারজনকে। ধৃতদের তালিকায় রজতের সঙ্গে নাম রয়েছে শিব রানা, দেব সারোহা এবং যোগেশ কুমারের।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, রজতের সঙ্গে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সম্পর্ক হয় তরুণীর। তারপরে তাঁকে বাড়িতে ডেকে এরকম একটি পরিকল্পনা করে সে। যদিও বা ঘটনাটি ঘটানোর পর সেই ব্যক্তিত্ব অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। বাসাভনগুড়ি থেকে একজন এবং বাকি দু’জনকে চিকপেট থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়ে গিয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর গা শিউরে উঠেছে সকলের। এই নিয়ে ডেপুটি কমিশনার বিনায়ক পাতিল জানিয়েছেন, “অভিযুক্তেরা রাজ্য স্তরের না জাতীয় স্তরের সাঁতারু। বেঙ্গালুরুর সদাশিব নগর ও বাসাভনগুড়ির সুইমিংপুলে তাঁরা বহুবার গিয়েছিলেন। সেখানকার লোকজনের সঙ্গে বিশদে আলোচনা হয়েছে। হেফাজতে রয়েছে সকলে”।