‘নাতি-নাতনি’ অথবা ‘টাকা’, ছেলের কাছে দাবি মা-বাবার

38

মহানগর ডেস্ক: প্রত্যেক সন্তানের কাছে তাঁর বাবা-মা ভগবানের সমান। আর প্রত্যেক বাবা-মায়ের কর্তব্য হয়ে থাকে তাঁর সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করা। নাকি নিজেদের বৃদ্ধ কালীন সময়ে সন্তানকে মানুষ করার জন্য কত খরচ হয়েছে তার হিসেব নিকেশ করা! এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তরাখণ্ডে। অবসরপ্রাপ্ত এক দম্পতি নিজের ছেলে এবং পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দায়ের করেছেন মামলা। যেখানে তারা দাবি জানিয়েছেন, এক বছরের মধ্যে নাতি-নাতনি দাও, আর না হলে তাঁদের ছেলে মানুষ হওয়ার পেছনে খরচ বাবদ ৫০ মিলিয়ান যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকা দিতে হবে।

শুনে হয়তো আপনি অবাক হয়ে যাচ্ছেন, যে কোনও বাবা-মা এমন করতে পারে! নিজের সন্তানকে, সন্তান নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ বা তাঁকে মানুষ করার জন্য যা খরচ হয়েছে গোটা জীবনে সেই টাকা ফেরত। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় নয়, ঠিক এমনই একটি সত্য ঘটনা ঘটেছে উত্তরাখণ্ডে। ৬১ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সঞ্জীব রঞ্জন প্রসাদ জানিয়েছেন, এটি তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী সাধনা প্রসাদের আবেগময় এবং সংবেদনশীল বিষয়। তারা আর অপেক্ষা করতে পারছে না। কারণ তার ছেলে একজন পাইলট। ৬ বছর হয়ে গিয়েছে তাঁদের ছেলের বিয়ে হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই দম্পতি জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে হয় তাঁদের নাতি-নাতনি দিতে হবে, আর না হলে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ জীবনে যা উপার্জন তা ছেলের শিক্ষার পেছনে ব্যয় হয়ে গিয়েছে। এই দম্পতি আরও জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের ছেলের পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ৩.৫ মিলিয়ন টাকা খরচ করেছে তাঁরা। আরও জানিয়েছেন, আমাদের এখন বয়স হয়েছে এখন আমাদের নাতি-নাতনি দরকার। কিন্তু আমাদের ছেলে এবং পুত্রবধূ এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না। আমরা তাদের বিয়ে দিয়েছিলাম এই আশাতে যে যখন আমরা ঠাকুমা দাদু হব। তখন আনন্দে জীবন কাটবে।

কিন্তু বিয়ের পর ছয় বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এখন এটা মনে হয় সবকিছু থাকা সত্ত্বেও আমাদের কাছে কিছুই নেই। এই মানবিক ঘটনার পর আদালত বৃদ্ধ দম্পতির আবেদন গ্রহণ করেছে। আগামী সোমবার হরিদ্বারে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে সঠিক? বাবা-মা নাকি ছেলে এবং পুত্রবধূ! প্রত্যেকেই হয়তো প্রত্যেকের জায়গা থেকে সঠিক, প্রত্যেককেই ভাবা উচিত প্রত্যেকে নিয়েই।