‘পাকড়াও বিয়ের’ শিকার বিনোদ, বর কেঁদে ভাসালেন বিয়ের মণ্ডপে

81

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিয়ের মণ্ডপে হাপুশ নয়নে কেঁদেই চলেছে৷ এই ভিডিওটি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল৷ আপাত দৃষ্টিতে ভিডিওটি দেখলে হাসি পাবে৷ তবে এটা আদউ মজার ভিডিও নয়৷ এর পেছনে আছে অন্য গল্প৷ যা ভয়ংকর ৷ হাস্যকর নয়৷ বিহারে ‘পাকড়াও বিবাহ’-র চল বহুকাল যাবৎ৷ এমন বিয়েতে জোর করে পাত্র বা পাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়৷ স্বেচ্ছায় বিয়ে না করেত চাইলে প্রয়োজনে এদের গায়ে হাত পর্যন্ত দেওয়া হয়৷ এমনকী বন্দুকের নল কপালে ঠেকিয়েও এদের বিয়ে দেওয়ানোর ঘটনা আকছার ঘটে বিহারে৷

২০১৭ সালের ডিসেম্বর পাটনায় পেশায় এঞ্জিনিয়ার বিনোদ কুমার রাতে বন্ধুর বিয়ে খেয়ে ফিরছিলেন৷ বছর তিরিশের এই যুবককে আচমকা একজন বাইকে করে পৌঁছে দিতে চান৷ একেবারে যেচে এই অচেনার লিফট লুফে নেনে বিনেদ৷ আর এটাই তাঁর জীবনের ঐতিহাসিক ভুল৷ তাঁর কথায়, কিছুক্ষন পরে একটি অচেনা বাড়ির সামনে থামেন বাইক আরোহী৷ তিনি জানান একটা জিনিস নিয়ে এখনই আসছি৷ এরপর বাড়ি থেকে বেশ কিছু ষণ্ডামার্কা লোক এলো৷ কিছু বোঝার আগে তারা আমাকে পাঁজাকোলা করে ভেতরে নিয়ে যায়৷ ভেতরে গিয়ে দেখি বিয়েরমণ্ডপ৷ সেখানে আমাকে জোর করে বসিয়ে দেওয়া হয়৷ আমি তাদের মিনতি করি ছেড়ে গিতে৷ তারা শোনে না৷ কপালে তাদের মধ্য কেউ একজন বন্দুকের নল ঠেকায়৷ বলে আমাকে বিয়ে করতে হবে৷ তারপর আমাকে জোর করে বিয়ে করতে৷ তারপর থেকে আমি শ্বশুর বাড়িতে গৃহবন্দি৷ এর বিরুদ্ধে আমি পুলিশের আকছে যাই৷ তবে শ্বশুর বাড়ির দাপট থাকায় স্থানীয় থানা প্রাথমিক নালিশ(এফআইআর) নিতে অস্বীকার করে৷ পরে ওপর মহলের চাপে এফআইআর নিতে বাধ্য হয়৷ এরপর বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়৷ ১৮’র ডিসেম্ব্র আদালত এই বিয়েকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে৷ তবু এখনও বিনোদ মুক্তি পায়নি তার শ্বশুর বাড়ি থেকে৷ তবে তিনি জানান এর শেষ দেখে ছাড়বেন৷ প্রয়োজনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্ত হবেন বলে সাফ জানান৷

বিনোদ জানান তাঁর শালা সুরিন্দর যাদব বিয়ের সময় তাঁর কপালে বন্দুকের নল ঠেকিয়েছিল৷ স্ত্রীরাই শুধু পারিবারিক হিংসার শিকার হন না৷, পুরুষেরাও বাদ পড়েন না৷ এই ঘটনা তার হাতে গরম প্রমাণ৷শুধু তিনি একা নন এমন বহু পুরুষ এমন ঘটনার শিকার হল প্রতিবছর৷ বেশিরভাগ ঘটনাই অজানা থেকে যাচ্ছে৷মজার কথা এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিউডে ছবি তৈরি হয়েছে৷ দ্রুত মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন বিনোদ কুমার৷