‘যারা হামলা চালিয়েছে তাদের আমি চিনি’, ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ দিল্লি পুলিশকে চাপে ফেললেন ঐশী

8
kolkata news

Highlights

  • এবিভিপির সদস্যদের বিরুদ্ধে একযোগে এফআইআর দায়ের করব
  • মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের হামলায় রবিবার রাতে রক্তাক্ত হয়েছে দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়
  • আহতদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লি পুলিশ

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের হামলায় রবিবার রাতে রক্তাক্ত হয়েছে দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থেকেও ঠুঁটো জগ্ননাথের ভূমিকা পালন করছিল দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, লাঠি, লোহার রড, ইট পাথরের হামলায় রক্ত ঝরেছে জেএনইউর পড়ুয়াদের। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষ সহ অধ্যাপকদের। এহেন ঘটনার দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পর পুলিশ এফআইআর দায়ের করলেও, এখনও পর্যন্ত ১ জনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ঐশী ঘোষ জানিয়ে দিলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে তাদের কয়েকজনকে আমি চিনি।’ এমনকি গোটা ঘটনায় বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির দিকে আঙুল তুললেন ওই বাম নেত্রী। ঘটনায় হাত গুটিয়ে বসে থাকা দিল্লি পুলিশের চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

দুষ্কৃতীদের হামলায় রবিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এদিন ছাড়া পেয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঐশী ঘোষ বলেন, ‘আমি একটু সুস্থ হলেই দিল্লি পুলিশকে আমি আমার বয়ান দেব। এবং এবিভিপির সদস্যদের বিরুদ্ধে একযোগে এফআইআর দায়ের করব।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর যারা রড দিয়ে হামলা চালিয়েছে তাদের কয়েকজনের মুখ আমি চিনি। হামলা চালানোর সময় কয়েকজনের মুখোশ খুলে পড়েছিল আমাদের সামনে। যারা আহত হয়েছেন তাদের মেডিকেল রিপোর্ট ইতিমধ্যেই এসে গিয়েছে। এবং বাকিরাও তাঁদের আঘাতের বিবরণ দেবে।’ এবং আহতদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লি পুলিশও।

উল্লেখ্য, জেএনইউ ক্যাম্পাসে রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ কর্মসূচী চলাকালীন হামলা চালায় মুখোশখারী জঙ্গিরা। লাঠি, রড, পাথর নিয়ে একের পর এক হামলা চালানো হয় পড়ুয়াদের উপর। ঘটনার জেরে গতকাল রাতে ২৮ জন বাম পড়ুয়া আহত হন। পাশাপাশি আহত হন অধ্যাপকরাও। সেদিন রাতেই ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে ঐশী ঘোষ জানান, ‘আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি রক্তাক্ত, কথা বলার অবস্থায় নেই।’ ঘটনার জেরে সরব হয়েছে অধ্যাপক সংগঠনও।

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতির কাছে উপাচার্য এম জগদেশ কুমারের অপসারন চেয়ে চিঠি লিখেছে অধ্যাপক সংগঠন। চিঠিতে গতকালের ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। বলা হয়েছে, ‘গতকাল রাতে লোহার রড, লাঠি, ইট, পাথর সহ একটি দলকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া হয়। তারাই হামলা চালিয়েছিল হস্টেলে। যাদের হামলায় পড়ুয়ারা ও অধ্যাপকরা আহত হন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি আমরা। কিন্তু এম জগদেশ কুমার থাকাকালীন সেটা সম্ভব নয়। তাই ওনাকে সরানো হোক।’