আরাবুল ‘বসে’ যাওয়াতেই ভাঙড়ে হার তৃণমূলের!

12
kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি : আরাবুল বসে যাওয়াতেই ভাঙড়ে হার তৃণমূলের! অন্তত তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি তা-ই। আরাবুল ভোট করালে দাঁত ফোটাতে হত না আইএসএফ প্রার্থী আব্বাসের ভাই নৌসাদ সিদ্দিকিকে। শেষ হাসি হাসতেন তৃণমূলের রেজাউল করিমই।

ভাঙড়ে এবার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের আরাবুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় আরাবুল নন, টিকিট দেওয়া হয় রেজাউল করিমকে। তার পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আরাবুল গোষ্ঠীর লোকজন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্বয়ং আরাবুলও। শেষমেশ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ প্রদর্শন থেকে নিরস্ত হন আরাবুল। তবে দলের অফিসিয়াল প্রার্থীর হয়ে কোমর কষে মাঠে নামতে দেখা যায়নি তাঁকে।

আরাবুলের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’র খেসারত ভাঙড়ে দিতে হয়েছে তৃণমূলকে। তৃণমূলের রেজাউল যেখানে ভোট পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৫০টি, সেখানে আইএসএফের নৌসাদ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৩টি। মুসলমান অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে গোল খেয়েছেন বিজেপির সৌমী হাতি। তিনি পেয়েছেন মাত্রই ৩৮ হাজার ৬৩৬ ভোট।

ভাঙড়ে মোট জনসংখ্যা আড়াই লাখের মতো। এর ৭০ শতাংশই মুসলিম। বাকিটা হিন্দু। অঙ্ক বলছে, রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও ভোটে মেরুকরণ হয়েছে। হিন্দু ভোটের একটা অংশ পেয়েছেন পদ্ম-প্রার্থী। এই ভোটে ভাগ বসিয়েছেন রেজাউলও। তার জেরেই রেজাউলের প্রাপ্ত ভোট পেরিয়েছে ৮০ হাজারের কোঠা। হিসেব বলছে, আরাবুল সক্রিয় হলে আরও অন্তত ৩০ হাজার ভোট পেতেন দলের অফিসিয়াল প্রার্থী। কিন্তু তিনি হাত গুটিয়ে নেওয়ায় ‘কপাল’ ফিরেছে নৌসাদের।

ভাঙড়ে যে জয় হতে চলেছে তার একটা আঁচ ভোটের ঢের আগেই পেয়েছিলেন আইএসএফ প্রার্থী। মুসলমান ভোটের অঙ্কে ভোট বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই ৪০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। পরে যখন দেখলেন আরাবুল বসে গিয়েছেন, সম্ভবত তখনই আর এক মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্র ভাঙড়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যে অঙ্কে শেষমেশ মাত হয়েছে কিস্তি। ভাঙড়ের প্রতিনিধি রূপে বিধানসভায় পা রেখেছেন নৌসাদ সিদ্দিকি।