ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ভ্যাকসিনটিরও মানব দেহে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল

8

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পর মানব দেহে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৩০০ জনের দেহে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাণী দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পরই মানব দেহে পরীক্ষার অনুমতি মিলেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনটির অবশ্য ইতিমধ্যেই মানব দেহে পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে।

সারা পৃথিবী জুড়ে কোভিড–১৯ ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে যে ১২০টি জায়গায় কাজ হচ্ছে লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজ তাদেরই অন্যতম। এই ভ্যাকসিনটির বৈশিষ্ট্য হল এর গঠন। সাধারণত ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি হল মূল ভাইরাসের জীবাণুকেই রূপান্তরিত করে বা দুর্বল জীবাণুর অত্যন্ত সামান্য অংশ দেহে প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করার প্রক্রিয়া। কিন্তু ইম্পিরিয়াল ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম জেনেটিক কোড ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভাইরাসের প্রতিরূপ গঠনে সক্ষম। এটি পেশীতে প্রবেশ করিয়ে দিলে নিজে থেকেই বাড়তে থাকবে এবং শরীরের কোষগুলিকে ভাইরাসের বাইরে যে প্রোটিন স্পাইক থাকে সেগুলির প্রতিরূপ তৈরি করার নির্দেশ দেবে। এভাবেই কোভিড–১৯ ভাইরাস দেহে প্রবেশ না করিয়েও দেহের মধ্যে প্রতিষেধক ক্ষমতা তৈরি হয়ে যাবে।

ইম্পিরিয়াল ভ্যাকসিনে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে জেনেটিক কোড ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এক লিটার কৃত্রিম পদার্থ থেকে ২০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন তৈরি হতে পারে। আপাতত এই ডোজ আমেরিকায় তৈরি হলেও চলতি বছরের শেষের দিকে ইংল্যান্ডেও তৈরি হতে শুরু করবে। ফলে যখন বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের প্রয়োজন হয়ে পড়বে তখন দু’দেশেই এই ভ্যাকসিনের উৎপাদন সম্ভব হবে।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের যেমন একটি ডোজ দেওয়া হচ্ছে, ইম্পিরিযাল ভ্যাকসিনের দেওয়া হচ্ছে দুটো ডোজ। দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান রাখা হচ্ছে চার সপ্তাহ। সারা বিশ্ব জুড়ে ১২০টি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চললেও গবেষণাগারের বাইরে মানব দেহে পরীক্ষিত হওয়ার মতো অবস্থায় এসেছে মাত্র ১৩টি ভ্যাকসিন। এর মধ্যে পাঁচটিই হল চিনে, তিনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, দু্টি ইংল্যান্ডে এবং অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ায় একটি করে।