ঘটির মধ্যে হাতিকে ঢোকাতে হবেই!

7
film

Highlights

  • তিনি বীরবল ও টোডরমলকে পাঠালেন সরেজমিনে তদন্ত করতে
  • চিদানন্দ দাশগুপ্ত মহাশয় সাহিত্য ও চলচ্চিত্র আলোচনা সভায় একটা গল্প বলেছিলেন
  • সাহিত্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের একটা ঝগড়া বরাবরের

 

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সাহিত্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের একটা ঝগড়া বরাবরের। সাহিত্য বলে আমি না থাকলে তোমার এত বড় সামাজিক শৈল্পিক মাধ্যম হওয়া খুবই মুশকিল ছিল। আবার চলচ্চিত্র বলে আমি না থাকলে তোমার এত প্রচার কী করে হত? আমি বুঝতেই পারছি না। তোমাকে চিনত কে? তোমার লেখা ছাপা হয়ে একধারে পড়ে থাকত।

এই বিষয়ে অভিনেত্রী ও চিত্রপরিচালক অপর্না সেনের বাবা চিদানন্দ দাশগুপ্ত মহাশয় সাহিত্য ও চলচ্চিত্র আলোচনা সভায় একটা গল্প বলেছিলেন

গল্পের আরম্ভ এইভাবে- একবার সম্রাট আকবর ভাবলেন তিনি ছদ্মবেশে দিল্লির শহরের অবস্থা দেখতে বেরোবেন, শহরের লোকজনেরা কেমন আছে, ঠিকঠাক শহর চলছে কিনা। বীরবলকে সঙ্গে নিয়ে। হাতির পিঠে চড়ে চলেছেন ছদ্মবেশী আকবর। হঠাৎ দেখলেন একটি শিশু তাদের বাড়ির দাওয়াই বসে হাপুস নয়নে কাঁদছে। শিশুটিকে দেখে আকবরের মায়া হল। বীরবলকে পাঠালেন শিশুটির কাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করে আসতে। বীরবল এসে যা বললেন, ঘটনাটি হল, শিশুটি প্রত্যেকদিন দেখে আকবরের হাতি গুলো হাতিশাল থেকে বেড়িয়ে শুঁড়ে একটি করে সোনার ঘটি নিয়ে চলেছে তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে স্নান করার জন্য ঘাটের দিকে। শিশুটির বায়না তারও ওইধরনের সোনার ঘটি চাই। শিশুটির বাবা দিনআনা দিন খাওয়া মানুষ। খাওয়ার জোগাড় নেই সে কি করে সোনার ঘটির ব্যবস্থা করবেন। এসব অবাস্তব বায়না সে সহ্য করবে না। বীরবল এসে সম্রাটকে এই কথা বললেন। সম্রাট শুনে বললেন এ আর এমন কি কথা।

টাকশাল থেকে একটি সোনার ঘটি এনে শিশুটিকে দিয়ে দাও। হুকুম মতো কাজ হল। কিছুদিন পর আবার আকবর বেড়িয়েছেন শহর দেখতে সেখানে সঙ্গী বীরবল। দেখেন সেই বাড়ির সামনে একটি কিশোর বসে আছেন ও কাঁদছে। তিনি আবার বীরবলকে পাঠালেন খবর নিতে। বীরবল বললেন এতো সেই শিশু, যাকে আমরা সোনার ঘটি দিয়েছি। আকবর জিজ্ঞাসা করলেন বর্তমানে তাঁর কান্নার কারণটা কী? বীরবল বললেন সোনার ঘটি পাওয়ার পর তার ইচ্ছা হয়েছে একটা হাতি চাই। কিশোরটির বাবা বলছে যে পরিবারের খাওয়ার সংস্থান নেই তারা হাতি পুষবে- কি সব অবাস্তব কল্পনা। কিন্তু বাবার কথা না শুনে আকবর হাতির ব্যবস্থা করে দিলেন আর হাতির খাওয়ার খরচ আসবে সম্রাটের কাছ থেকে এমনই ব্যবস্থা হল। আকবর ভাবলেন এবার বোধহয় কিশোরটির কান্না বন্ধ হবে। কিন্তু কোথায় কী? আকবরের কাছে খবর এল কিশোরটি এখনও এখনও মাঝে মাঝে কাঁদছে। আকবরের এবারে চিন্তা হল।

তিনি বীরবল ও টোডরমলকে পাঠালেন সরেজমিনে তদন্ত করতে। বীরবল ও টোডরমল ফিরে এসে যা বললেন- সম্রাট অবস্থা ভীষণ খারাপ। ছেলেটিকে যে ঘটি ও হাতি দেওয়া হয়েছিল এখন সে বলছে হাতিটিকে এবার ঘটির মধ্যে ঢোকাতে হবে। সম্রাট বললেন এতো মহা মুশকিলের কাণ্ড। বীরবল ও টোডরমলকে জিজ্ঞাসা করলেন এই বিষয়ে আপনাদের মতামত। তারা বললেন- আমরা নিরুপায়। আকবরও হার মানলেন কিশোরটির বায়নার কাছে।

এই বলে চিদানন্দ দাশগুপ্ত একটু থামলেন। ঠিক এই সমস্যা হচ্ছে সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে, আর চলচ্চিত্র-সাহিত্যের মধ্যে। কাউকে কারোর মধ্যে প্রবেশ করানো যায় না। প্রত্যেকেই নিজের অস্তিত্ব নিজের শিল্পসত্তা নিয়ে রয়েছে। মিশিয়ে দিয়ে যে তাদের অন্য রূপান্তর হবে বা একজন আর একজনকে ছাড়িয়ে চলে যাবে তেমন কথা ঠিক নয়।