আরইসিপি চুক্তি করল না ভারত, দেশের স্বার্থ সবার আগে বললেন প্রধানমন্ত্রী

132
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক:  আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (আরসিইপি) সই করল না ভারত৷ সোমবার ব্যাঙ্ককে এই বিষয়ে বৈঠকে দ্বর্থ্যহীন ভাষায় চুক্তিতে না থাকর কথা জানালেন প্রদানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তাঁর সোজা কথা, সবার আগে দেশের স্বার্থ৷ তাই তাঁর পক্ষে এই ধরণের চুক্তিতে স্বাক্ষর করা সম্ভব নয়৷ উল্লেখ্য প্রথম থেকেই অন্যতম বিরোধী দল কংগ্রেস এই চুক্তির ইবরোধিতা করছে৷ তবে কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘ(আরএসএস)র বিরোধিতার পরে এই চুক্তি করলেন না প্রধানমন্ত্রী৷কংগ্রেসরে গালাগালি দিলেও এরফলে নৈতিক জয় হল সোনিয়ার দলের৷ তাঁদের চুক্তি বিরোধিতার সব কারণগুলি কার্যত মেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ তংআর সোমবার বাষণ থেকে তা স্পষ্ট হয়ে গেল৷ তাঁর সাফ কথা, এই চুক্তিতে আরসিইপির আসল জোশ অনুপস্থিত৷ তাছাড়া এই চুক্তি করলে ১৬ দেশের যে উদ্দেশে বামিজ্য করা তা পূরণ হবে না৷ এটা গেল অযুহাত৷ আসলে সংঘের চাপে প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তি থেকে সরে ডাঁড়ালেন বলে মনে করেছে রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ৷ তাছাড়া মোদীর মতে, এই বাণিজ্য চুক্তিতে রাজী হলে দেশীয় শিল্প ও কৃষির ক্ষতি হবে৷ তাই দেশের স্বার্থে তিনি এই চুক্তিতে সই করলেন না বলে জানান৷

এদিকে চিনের হয়ে ওকালতি করে ভারত বিরোধিতা জারি রেখেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহাথির৷ আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দারণা, এই আলোচনায় যুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অবশ্য আশা, সোমবার বৈঠকের আগে সমাধানের একটা পথ মিলবেই। সূত্রের খবর, ভারত বাদে বাকি ১৫টি আরসিইপ সদস্যই চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।১৬টি দেশের মধ্যে মুক্ত আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে কথা চলছে বছর দু’য়েক ধরে। তাইল্যান্ডে হতে চলেছে শেষ দফার আলোচনা। তবে ভারতের আশঙ্কা, একবার চুক্তি হয়ে গেলে চিন থেকে আসা সস্তার কৃষি ও শিল্প পণ্যে দেশের বাজার ছেয়ে যেতে পারে। যে কারণে ঢাল হিসেবে মূলত বাজার খোলা ও সংরক্ষিত পণ্যের তালিকা তৈরির বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে তারা।

চুক্তি নিয়ে আপত্তি তুলেছে খোদ আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। কংগ্রেসের তোপ, এতে কৃষক, দোকানদার, ছোট ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়বেন। সোমবার এ নিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে ২৫০টি কৃষক সংগঠনের মঞ্চ। তবে বণিকসভা সিআইআইয়ের দাবি, এই চুক্তি না করলে ভারতের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ধাক্কা খাবে লগ্নি। এই অবস্থায় সোমবার আরসিইপি-র বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভারতের সিদ্ধান্তের উপরেই অনেকটা নির্ভর করছে ওই চুক্তি। যা চূড়ান্ত হলে বিশ্বের সব থেকে বড় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল হবে এটি। কারণ এই ১৬টি দেশেই থাকেন ৩৬০ কোটি মানুষ। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।মোদীর দাবি, সব ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত, আলোচনায় দাঁড়ি পড়বে সোমবার।