Boxing Day Test: বক্সিং ডে টেস্টে ধোঁয়াশা টিম ইন্ডিয়ার প্রথম একাদশ নিয়ে, প্রোটিয়া ধাঁধা সমাধানের মিশনে লাইমলাইটে বিরাটই

11
খোশমেজাজে গুরু-শিষ্য। প্র্যাকটিসের ফাঁকে আলোচনা সেরে নিচ্ছেন কোহলি-দ্রাবিড়।

মহানগর ডেস্ক: ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে একটা সময় সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই উঠে গিয়েছিল প্রশ্ন। অবশেষে যাবতীয় ঝড়-ঝাপটা সামলে অবশ্য জয়ী হয়েছে ক্রিকেট। টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল, সফর পিছিয়ে যাওয়া বা সূচি পরিবর্তনের মতো অনাকাঙ্খিত কিছু বিষয় সিরিজের শুরুতে আঁচড় ফেললেও, বাইশগজের যুদ্ধকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। রবিবার ঐতিহ্যবাহী বক্সিং ডে টেস্ট দিয়ে সফর শুরু করছে টিম ইন্ডিয়া।

বেশ কিছুদিন ধরেই বিরাট কোহলি বনাম বিসিসিআই নিয়ে সরগরম ক্রিকেট মহল। এই বিতর্ক দূরে সরিয়ে ম্যাচের জন্য নিজেকে কতটা প্রস্তুত করেছেন বিরাট, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। শুধুমাত্র টেস্ট ফরম্যাটেরই ব্যাটন রয়েছে কিং কোহলির হাতে। অধিনায়কত্ব ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ব্যাট হাতেও সেভাবে নজর কাড়তে পারছেন না বিরাট। তাই অনেকেই মনে করছেন, প্রোটিয়া সফর ভিকের জন্য কার্যত অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে।

অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতে এলেও, দক্ষিণ আফ্রিকা ধাঁধা এখনও সমাধান করতে পারেনি ভারত। প্রোটিয়াভূমে গিয়ে টেস্ট সিরিজ জেতা হয়নি সৌরভ-শচীন বা বিরাট-পূজারাদের। এবার তাই নয়া ইতিহাস গড়ার হাতছানি বিরাট অ্যান্ড কোংয়ের সামনে। বড় পরীক্ষা হতে চলেছে রাহুল দ্রাবিড়েরও। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে চলেছেন দ্য ওয়াল। পাশাপাশি ড্রেসিংরুম থেকে যাবতীয় বিতর্ককে ছুড়ে ফেলে দলের অন্দরমহলে ফিল গুড ফ্যাক্টর আনাও চ্যালেঞ্জ মিস্টার ডিপেন্ডেবলের কাছে।

সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্টস পার্কে ম্যাচটি ঘিরে অবশ্য তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এক্ষেত্রে অবশ্য ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নয়, ভিলেন হচ্ছেন বরুণদেব। আবহওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে সোমবার প্রথম সেশন থেকেই বৃষ্টি প্রভাব ফেলতে পারে ম্যাচে। মঙ্গলবারও মেঘাচ্ছন্ন থাকবে আকাশ। সঙ্গে দু-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বুধ এবং বৃহস্পতিবার আকাশ পরিষ্কার থাকবে বলে খবর। আর সেঞ্চুরিয়নের আকাশ মেঘে ঢাকা মানেই তা যে ব্যাটারদের কাছে ত্রাস এবং পেসারদের স্বর্গরাজ্য, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পাঁচ বোলারে যে দল সাজাবে ভারত, সেই ঘোষণা টিম ইন্ডিয়ার স্টপগ্যাপ সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুল আগেই করে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে চার পেসার এবং একমাত্র স্পিনার হিসাবে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি টিম ম্যানেজমেন্টের। জসপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সামি কার্যত নিশ্চিত। বাকি দুই পেসারের জন্য লড়াইয়ে থাকবেন ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, মহম্মদ সিরাজ এবং শার্দূল ঠাকুর। উইকেটরক্ষক হিসাবে ঋদ্ধিমানের থেকে পন্থই এগিয়ে। ধোঁয়াশা রয়েছে ব্যাটিং লাইন আপ নিয়েও। মায়াঙ্কের সঙ্গে ওপেন করবেন রাহুল। তিনে পূজারা এবং চারে বিরাট অটোমেটিক চয়েজ। পঞ্চম ব্যাটার হিসাবে দৌড়ে রয়েছেন শ্রেয়স আয়ার, অজিঙ্কা রাহানে এবং হনুমা বিহারী। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে আয়ার বা বিহারী এগিয়ে থাকলেও, অভিজ্ঞতার নিরিখে রাহানেকেও প্রথম একাদশে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

অন্যদিকে, সিরিজ শুরুর আগেই দলের অন্যতম সেরা পেসার এনরিখ নর্তজের ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা ডিন এলগার অ্যান্ড কোংয়ের সামনে। তবে রাদাবা, এনগিদিরা কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত বিরাটদের। ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ‍‘অপরাজিত’ থাকার তকমা ধরে রাখার মিশনে প্রোটিয়া বাহিনী যে নিজেদের নিংড়ে দেবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।