মহানগর ডেস্কঃ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার এবার বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন। টুইটে ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে টুইট করেন তিনি। এরপর তাঁর এই পোস্ট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। বিপদ বুঝেই কিছু সময় পরে অবশ্য সাংসদ মুছে দেন সেই টুইট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনন্দ রঙ্গনাথনের একটি টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কড়া ভাষায় ব্রাহ্মণবিরোধী বক্তব্য পোস্ট করেন জহর সরকার। তিনি পোস্টে লেখেন, শিক্ষাও রুক্ষ এবং জিনগত ভাবেই উদ্ধত ব্রাহ্মণদের সুস্থ করতে পারেনি। এই ১ শতাংশ বর্ণবাদী সুবিধাভোগীদের জন্যই ৯৯ শতাংশ ভারতীয়র মধ্যে ইসলামোফোবিয়া তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বৌদ্ধ স্থাপত্যগুলি ব্রাহ্মণ শাসকেরাই ধ্বংস করেছিলেন।
এই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী একটা গোটা সম্প্রদায় সম্পর্কে ঘৃণ্য মন্তব্য করার তীব্র বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি তিনি জহর সরকারকে হুমকি দেন এমন মন্তব্যের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং টুইটটি মুছে দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সুনন্দা বশিষ্ঠ জানান, এরকম ঘৃণাভাষণ মুছে দিলেও তার মূল্য দেওয়া উচিত। কেবল টুইট মুছিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। ইতিহাসবিদ বিক্রম সম্পত টুইটে লেখেন, এই বর্ণবাদী একসময় ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রসার ভারতীর হয়ে কাজও করতেন এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। তিনি দাবি করেন, জহর সরকারের বিষাক্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিষ্কার সিভিল সার্ভিসের প্রয়োজন। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জহর সরকারের মন্তব্য প্রমাণ করে তিনি এখনও ইতিহাসের ডাস্টবিনেই রয়ে গিয়েছেন।