নীতীশকে বুকে টেনে বিহারে এক ঢিলে দুই পাখি মেরে দিলেন ‘চাণক্য’ অমিত শাহ

27
bengali news

Highlights

  • ভাঙনের পথে হাঁটতে থাকা জেডিইউ ও বিজেপি জোট দুম করে এভাবে জুড়ে যাওয়ায় আরজেডি বেশ খানিক বিপাকে
  • এক ঢিলে দুই পাখি মেরে বসলেন জাতীয় রাজনীতির চাণক্য অমিত শাহ
  • বিহার রাজনীতিতে বরাবরের জন্যই শক্তিশালী দল ৩ টি আরজেডি, জেডিইউ ও বিজেপি

মহানগর ওয়েডেস্ক: লালু সঙ্গ ত্যাগের পর সেই যে নীতীশ গেরুয়া শিবিরে আসন পেতে বসলেন, সেখান থেকে আর নড়চড়ের কোনও সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। মাঝে একটু আধটু দ্বন্দ্ব হলেও আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফের একবার নীতীশের হাতে হাত রেখেই লড়াই করা হবে বলে বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য এক ঢিলে দুই পাখি মেরে বসলেন জাতীয় রাজনীতির চাণক্য অমিত শাহ। সম্পর্কের ভাঙনের পথে হাঁটতে থাকা জেডিইউ ও বিজেপি জোট দুম করে এভাবে জুড়ে যাওয়ায় আরজেডি যে বেশ খানিক বিপাকে পড়ল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রসঙ্গত, বিহার রাজনীতিতে বরাবরের জন্যই শক্তিশালী দল ৩ টি আরজেডি, জেডিইউ ও বিজেপি। আর চিরাচরিত ধারা মেনে যে কোনও দুই দল যদি একজোট হয় তবে তৃতীয় দলের ভরাডুবি যে একরকম নিশ্চিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তা সে একটা সময়ে আরজেডি ও জেডিইউ জোটে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ুক বা বিজেপি-জেডিইউ জোটে লালুর ‘শনির দশা’ই হোক। সঙ্গী জোটালেই ‘কেল্লা ফতে’। এই ফর্মুলা বিহার রাজনীতিতে চলছে বহু দিন ধরেই। সুতরাং বিজেপি ও জেডিইউ-র এই জোটের লড়াইয়ে ভোটের আগেই লালুর দল বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়ল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এদিকে এই জোটের পাশাপাশি বিহার রাজনীতিতে বেশ বুদ্ধিমত্তার সহিত ঢিলখানি ছুঁড়লেন অমিত শাহ।

প্রথমত, সেই লোকসভা নির্বাচনের সময়কাল থেকেই ঠোকাঠুকিটা বেশ লেগে রয়েছে জেডিইউর নীতীশ কুমার ও বিজেপির। তা সে আসন নিয়ে ঝামেলা হোক বা মতানৈক্য। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর নিয়ে এক দ্বন্দ্ব বেশ চড়েছিল জেডিইউতে। এনডিএ-র শরিক হয়েও স্পষ্ট ভাষায় নীতীশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন তার রাজ্যে কোনও মূল্যেই এনআরসি লাগু করতে দেবেন না তিনি। এই পরিস্থিতির মাঝে বিহারে দুই শক্তিশালী দলের এই জোট ইঙ্গিতবাহী তো বটেই। এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে বিজেপি হাতির ৫ পা দেখেছে বলে বারবার অভিযোগ তুলেছে শরিকরা। ফলস্বরূপ এনডিএ-র বহু শরিক এনডিএ ছেড়েছে মতানৈক্যের জেরে। পরিস্থিতির জেরে একের পর এক রাজ্যও হাতছাড়া হয়েছে গেরুয়া শিবিরের, উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় সাম্প্রতিক মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ড। ঠিক এই জায়গা থেকে শরিকদের বাড়তি প্রাধান্য দিয়ে বিহারে এই জোট বাকি বন্ধুবর্গদের জন্য একটা স্পষ্ট বার্তাও বটে।

দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সালের পর যেভাবে ভারতের মানচিত্রে গেরুয়া দাপট দেখা গিয়েছিল, সম্প্রতি সে আলো একে একে নিভতে শুরু করেছে। একের পর এক রাজ্য যখন হাতছাড়া হতে শুরু করেছে বিজেপির এহেন সময়ে বিহারে পুরানো প্রথা মেনে জোটের লড়াইয়ে আরজেডিকে টক্কর দিয়ে বিজেপি জোট ফের ক্ষমতার আসবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এককালের অশ্বমেধের ঘোড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে বাধার মুখে পড়েছে তাতে নতুন করে বিহার দৌড়ে খেলা ঘুরবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। অবশ্য বিহারের আগে দিল্লি নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য দিল্লির কূর্সি রয়েছে বিজেপির সামনে। যদিও রাজনৈতিক মহলের দাবি, কেজরি দাপট যেভাবে ফুঁসে উঠেছে দিল্লিতে তাতে রাজধানীতে বিজেপি খুব বিশেষ খেলা ঘোরাতে পারবে বলে মনে হয় না।