কালীঘাট সেতুর ‘স্বাস্থ্য সংকট’, উদ্বেগ প্রকাশ ফিরহাদের

9
news bengali

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্যের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে কালীঘাট সেতুর। যা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ওই সেতুতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করে কিভাবে তা ঠিক করা যায় তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তারজন্য এবার কালীঘাট সেতু সারাইয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে উদ্যোগী পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।

বৃহস্পতিবার কেএমডি’র তত্ত্বাবধানে থাকা সব সেতু নিয়ে নিজের দফতরের আধিকারিকদের সাথে বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেখানেই উঠে আসে শহরের পূর্ব ও দক্ষিণের দুই সেতুর স্বাস্থ্যের কথা। চিংড়িঘাটা ও কালীঘাট সেতুর অবস্থা ভীষণ খারাপ বলে উল্লেখ করেন বৈঠকে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা। একদিকে যেমন জানা যায় ১২ বছর পুরনো চিংড়িঘাটা সেতুর নকশা নিয়ে সমস্যা আছে। অন্যদিকে ৫০ বছরের কালীঘাট সেতুর নকশা এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে ব্রিজের কাঠামো দেখতে গিয়ে নানা ধরণের সমস্যার মধ্যে পড়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা।

চিংড়িঘাটা সেতুর পিলারের অবস্থানে সমস্যা আছে জানিয়ে এই সেতু সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘আমরা ওখানে নতুন সেতু তৈরি করব। ই এম বাইপাস থেকে একেবারে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত। বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে৷ তারপরে বাজেট দেখে কাজ এগোবে।’

এদিকে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট সেতুর নকশা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই সেতুর একটি স্প্যানে ত্রুটি আছে। কি করে এই স্প্যান মেরামত করে কাজ চালানো যায় তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘দক্ষিণের এই সেতু তো একেবারে বন্ধ করা যাবে না। তাতে যান চলাচলের ওপর প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে এই সেতুর যা অবস্থা তাতে একে সারাতেও হবে শীঘ্রই। ফলে একটা মাস্টার প্ল্যান বানানো হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার পরে শহরের একাধিক উড়ালপুলগুলির অবস্থা জানতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অমিতাভ ঘোষালের নেতৃত্ব একটি ব্রিজ এক্সপার্ট কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়। এই কমিটি শহরের সব উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। সব মিলিয়ে শহরের ১৬টি ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথা ছিল। যার মধ্যে ১১টি ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।