কোষ্ঠকাঠিন্য ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? আসলে কোলন ক্যান্সার নয় তো! কোন কোন উপসর্গ দেখে বুঝবেন জেনে নিন

105

মহানগর ডেস্ক: আগের থেকে বাথরুমে এখন বেশি সময় লাগছে। এই নিয়ে রোজই হাসিঠাট্টার খোরাক হচ্ছেন। আবার কখনো কখনো শুনতে হচ্ছে বিস্তর অভিযোগ। এই অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই রয়েছে। তবে মাঝে মাঝে কোমডে দেখা দিচ্ছে রক্তপাত। আর তাই দেখে আতঙ্কিত হচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ,ল্যাক্সেটিভ ,পারগেটিভ ব্যবহার করছেন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে। সাবধান, মলের সময় রক্তপাত অনেক সময় কোলন ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে।

 

চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা জয়ন্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন আমাদের দেশে গড়ে ২২ শতাংশ মানুষ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। আর সেই তালিকায় কলকাতা একেবারে প্রথম সারিতে। কলকাতার প্রায় ২৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক কোষ্ঠকাঠিন্যের শিকার। এর ফলে মলদ্বার দিয়ে রক্ত বেরোনো,পাইলস ফিসচুলা, ফিশারের মত অসুখের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন উপসর্গ দেখা যায় কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে। তাঁর কথা অনুযায়ী, একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০২০ সালে মোট কুড়ি লক্ষ মানুষ কলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৬০ কিংবা তাঁর বেশি বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই ঘরোয়া টোটকা উপর ভরসা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন জয়ন্ত চক্রবর্তী।

 

ঠিক কী কারণে এই সমস্যা বাড়ছে?

 

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অত্যধিক ওজন, বাড়িতে রান্না করা টাটকা খাবারের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত খাবার দাবারে আসক্ত এবং অত্যন্ত মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের আশঙ্কা। তবে সঠিক সময় যদি চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে সহজেই জব্দ করা যায় এই ক্যান্সারকে। প্রাথমিক উপসর্গ দেখা গেলে ঘরোয়া টোটকা ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি মাঝ বয়সে মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যায়, বারবার ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া শুরু হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া পেটে অস্বস্তি ভাব, ওজন কমে যাওয়া,খিদে বোধ কম হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দ্রুত সার্জারি কিংবা কেমোথেরাপির মাধ্যমে এই অসুখের বিস্তারকে আটকে দেওয়া যায়। শুধু তাই নয় লিভার বা ফুসফুসে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকানো যেতে পারে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণে।

 

তাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতির সাহায্যে রোগকে আটকানোর সঙ্গে সঙ্গে রোজকার খাবারে আনতে হবে পরিবর্তন। ফলমূল শাকসবজি খাওয়া, ভুসি সহ আটার রুটি,মিলেট ,ওটস খাওয়া দরকার। রেডমিট তালিকা থেকে বাদ দেওয়া শ্রেয়। কারণ এগুলি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।