এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা যায় না, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝে সরকারকে দুষল আদালত

29
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। যার জেরে পুড়ে ছারখার তৃণমূল শাসিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গও। গোটা পরিস্থিতি বিচার করে রাজ্যের একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছ মমতা সরকার। রাজ্যসরকারের এহেন সিদ্ধান্তেই এবার কড়া কথা শোনাল কলকাতা হাইকোর্ট। এক জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, ‘এভাবে দীর্ঘ দিন ধরে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা যায় না। তা করতে গেলে উপযুক্ত কারণ থাকা বাঞ্চনিয়।’

রাজ্যসভায় ক্যাব বিল আইনের রূপ নেওয়ার পর থেকেই রীতিমতো জ্বলে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। লাগাতার হিংসায় রাজ্যের একাধিক জায়গায় পুড়েছে বাস, ট্রেন। বন্ধ হয়েছে রাস্তাঘাট। পরিস্থিতির জেরে ঘর বিপাকে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় হিংসার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে আগুন জ্বলেছে আরও বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়েই রাজ্যের একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যসরকার। তবে দীর্ঘ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার জেরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় একটি জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এদিন আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখতে পারে না সরকার। এটা করতে গেলে উপযুক্ত কারণ লাগে। এই পরিস্থিতির জেরে জেলাও্যাড়ি রিপোর্ট সংগ্রহ করে হলফনামা জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

শুক্রবার ইন্টারনেট বন্ধের জেরে মামলাকারীর তরফে আইনজীবই আদালতকে জানান, গত ৩ দিন ধরে রাজ্যসরকার শান্তির কথা বলছে। অথচ হাওড়ার জেলাশাসক অশান্তির আঁচ করে আগাম সতর্কতা জারি করেছেন বন্ধ করেছেন ইন্টারনেট পরিষেবা। এটা কেন? উত্তরে আদালতের পর্যবেক্ষন এভাবে চলতে পারে না। ইন্টারনেট বন্ধ করতে গেলে সরকারকে উপযুক্ত কারণ পেশ করতে হবে।