ডায়ালেসিস রোগীর রক্তের দরকার, গাড়ি করে ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে এল বেলেঘাটা থানার পুলিশ

32
news bengali kolkata

রাজেশ সাহা, কলকাতা: লকডাউনের কারণে রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ। নানাভাবে সমস্যায় পড়েছেন সমাজের সব স্তরের মানুষই। যদিও জরুরি পরিষেবা গুলিকে লকডাউন- এর আওতার বাইরে রাখা রেখেছে সরকার। তবুও যানবাহন না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে অসংখ্য রোগী ও আত্মীয় পরিজনদের। এমনই এক রোগীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নজির গড়ল বেলেঘাটা থানার পুলিশ।

জরুরি ভিত্তিতে রক্তের দরকার এমন এক ডায়ালেসিস রোগীর মাকে নিজেদের গাড়ি করে উল্টোডাঙ্গা ব্লাড ব্যাংকে পৌঁছে দিয়ে রক্তের ব্যবস্থা করে দিল পুলিশকর্মীরাই। শুক্রবার এমনই এক মানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ বেলেঘাটা থানায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেবা রাণি কুণ্ডু নামে বছর পঞ্চান্নর এক প্রৌঢ়া। থানায় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের তিনি জানান, তাঁর মেয়ে তপতী কুণ্ডু বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নদীয়ার বাসিন্দা তপতী কুণ্ডর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালেসিস চলছে। এদিন চিকিৎসকরা বলেন, তাঁর জন্য জরুরি ভিত্তিতে দুই ইউনিট রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে রক্তের ব্যবস্থা কী করে সম্ভব? রাস্তায় গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে রোগীর মায়ের। কোনও উপায় না পেয়ে হতাশ হয়ে শুক্রবার দুপুরে বেলেঘাটা থানায় চলে আসেন তিনি। দ্রুত রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা পুলিশকে জানান রেবা দেবী।

বিষয়টি নজরে আসতেই নিজের বাহিনীকে দ্রুত তৎপর হয়ে ওই রোগীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন বেলেঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার ঘোষাল।

ওসির নির্দেশ পেয়ে থানার নিজস্ব গাড়ি করেই রেবা দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় মানিকতলা ব্লাড ব্যাঙ্ক-এ। তাঁর সঙ্গে পাঠানো হয় রঞ্জনা পাল নামে থানার এক মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ারকে। পাশাপাশি রাস্তায় রোগীর পরিবারকে যাতে কোনও রকম সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়, সেই পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নজরদারি চালানোর জন্য থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর প্রসেনজিৎ পালকে নিযুক্ত করেন ওসি প্রদীপ কুমার ঘোষাল। এরপর পুলিশের গাড়িতে করে মানিকতলা ব্লাড ব্যাঙ্ক- এ পৌঁছে দুই ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেন তিনি। তারপর ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে ফের বেলেঘাটা হাসপাতালে রক্তসহ রেবা দেবীকে পৌঁছে দেন বেলেঘাটা থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার রঞ্জনা পাল। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন রেবা দেবী। পুলিশের সহযোগিতায় বিপদমুক্ত বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি থাকা তাঁর মেয়ে তপতী কুণ্ডু।

দেশজুড়ে লকডাউন থাকায় প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপদে পড়ছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিপদে পড়া সকল মানুষকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যে কলকাতা শহরের আনাচে-কানাচে ভবঘুরে এবং না খেতে পাওয়া হতদরিদ্র মানুষদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাবার খাইয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কলকাতার বিভিন্ন থানার পুলিশ আধিকারিকরা। দিনের শেষে বেলেঘাটা থানা পুলিশের সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রেবা দেবীও। তিনি বলেন, ‘এভাবেই অসহায় মানুষের পাশে পুলিশ কর্মীদের সবসময় পাওয়া গেলে, সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হতে পারেন’।