শহরের ১৪ শতাংশ মানুষের শরীরে অজান্তেই তৈরি হয়েছে করোনার অ্যান্টিবডি

26

মহানগর ওয়েবডেস্ক: লকডাউন উঠে যাওয়ার পর গোটা দেশে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে করোনার বাড়বাড়ন্ত। রাজ্যেও ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এরই মাঝে কিছুটা আশার কথা শোনালো আই সি এম আর এর সেরো সার্ভে রিপোর্ট। তাদের দাবি কলকাতা শহরে অন্তত ১৪ শতাংশ মানুষ নিজের অজান্তেই আক্রান্ত হয়ে সেজে উঠেছে। যেহেতু শরীরে কোনও উপসর্গ ছিল না তাই তিনি জানতেও পারেননি যে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। যার অর্থ এই ১৪ শতাংশ মানুষের শরীরে তৈরি হয়েছে মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য অ্যান্টিবডি।

ভারতে কত শতাংশ মানুষের শরীরে করোনার বিরুদ্ধে লড়ার মত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তা জানতে সম্প্রতি সার্ভে শুরু করেছিল আইসিএমআর। যেখানে কলকাতার ১৭ টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি রাজ্যের পাঁচটি জেলায় উপসর্গহীন বহু মানুষের থেকে সংগ্রহ করা হয় রক্তের নমুনা। তা পরীক্ষা করার পরই এ দিন আসার কথা শোনালো কেন্দ্রীয় সংস্থা। যদিও নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা কম হয় একেবারে আশ্বস্ত হতে পারছে না সংস্থা। তবে যে রিপোর্ট প্রকাশ এসেছে তা হল, সংগ্রহীত নমুনা অনুযায়ী কলকাতা শহরে ১৪.৩৯ শতাংশ মানুষের শরীরে তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ২.৫%, পূর্ব মেদিনীপুরে ৭৫%, আলিপুরদুয়ারে ১%, বাঁকুড়া ২৫% ও ঝাড়গ্রাম ২৫%। কলকাতাসহ এই সমস্ত জেলাগুলিতে ৪০০ জন মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে এই সমীক্ষা করা হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে শতাংশের ভিত্তিতে এত মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং নিজেদের অজান্তে তার সেরেও গিয়েছে। যার অর্থ তাদের শরীরে তৈরি হয়ে গিয়েছে অ্যান্টিবডি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা।

জানা গিয়েছে কলকাতাতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় বাগবাজার থেকে বালিগঞ্জ, মানিকতলা থেকে নিউ আলিপুর শোভাবাজার থেকে পোস্তা সহ মোট ১৭ টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ জন করে ব্যক্তির। এদিন তাঁর যে ফল বের হল তা অনেকটাই আশাব্যঞ্জক দাবি করা হচ্ছে ১৪ শতাংশ মানুষ আর করোনায় আক্রান্ত হবেন না। তবে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষের বাস যে শহরে সেখানে মাত্র ৪০০ জনের নমুনা সংগ্রহ নেহাত নস্যি। স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি নমুনা সংখ্যা আরো বাড়ালে চিত্রটা আরো পরিস্কার হবে। ফলে এই সামান্য নমুনা নিশ্চিন্ত হচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমরা নিজেদের একটা সার্ভেতে দেখেছি বস্তি এলাকায় সংক্রমণের হার অন্য মেট্রো শহরের তুলনায় অনেক কম এটা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।