‘শুধু ত্রিপুরা নয়, বঙ্গ বিজেপির কাছেও বড় ধাক্কা’, বিপ্লব দেবের ইস্তফা নিয়ে মন্তব্য কুণালের

34

মহানগর ডেস্ক: সবাইকে চমকে দিয়েই ইস্তফা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। শনিবার দুপুরে রাজ্যপালের কাছে নিজের ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কী কারণে তিনি ইস্তফা দিলেন সেই বিষয়টি এখনও পরিষ্কার হয়নি, কারো কাছেই। এবার তাঁর দেওয়া ইস্তফা নিয়ে মন্তব্য করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজ কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও মাথাব্যথা নেই। এটি বিজেপির ক্ষমতা দখলের নয়া পরিকল্পনা।

পাশাপাশি তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, ‘বাংলার বিজেপি যেমন বাংলার কথা ভাবে না, দিল্লি বিজেপি যেমন বাংলার কথা ভাবে না, একইভাবে ত্রিপুরার বিজেপি ত্রিপুরার কথা ভাবে না। যেনতেন প্রকারে সরকারে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু একটা দল একটা মুখ্যমন্ত্রীকে বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারে না। তা শুধু ত্রিপুরার কাছে বড় ধাক্কা নয়, বাংলার বিজেপি যারা বড় বড় কথা বলে তাদের কাছেও বড় ধাক্কা। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে গোষ্ঠীবাজ, লোভী, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করার দলকে ভোট দেওয়া হবে’।

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় উপনির্বাচনের সময়ে পথে নেমে বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে বিরোধিতা জানানো হয়েছিল। ঠিক তার কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজের পদ ছাড়লেন বিপ্লব দেব। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর জল্পনা। বিশেষজ্ঞরা বলছে বিজেপি পরিকল্পনা করে সরিয়েছে বিপ্লব দেবকে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ত্রিপুরার মানুষ ঘুরে ফিরে চায় তৃণমূলকে। একুশে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় মুখ থুবরে পড়েছে বিজেপি। হার হয়েছে তৃণমূলের কাছে। তাই ত্রিপুরার মানুষ বাংলার মতোই বারংবার উন্নয়ন চায়। তারা চায় বাংলার মতো স্বাস্থ্যসাথী থেকে দুয়ারে সরকার, লক্ষীর ভান্ডার থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রকল্প। যেন তাদের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ত্রিপুরার মানুষ বিজেপিকে পছন্দ করে না। তা আজকের ইস্তফা থেকে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বিজেপি গোষ্ঠী বাজ, যারা মানুষের কথা ভাবে না। ত্রিপুরার মানুষ তৃণমূলকে আশীর্বাদ করেছে। তাই কুড়ি থেকে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ছাব্বিশে। আগামী দিনে ধীরে ধীরে বাংলার প্রতিটা প্রকল্প ত্রিপুরার প্রত্যেকটা মানুষ যাতে পায় তা তৈরি করে দেবে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সেনাপতিত্বে এই লড়াই চলবে।